শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুন

শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুন
অর্জুন তোমার আমার বহুবার জন্ম হয়েছে। সে কথা তোমার মনে নেই, সবই আমার মনে আছে।
Showing posts with label মুসলিম বর্বরতা. Show all posts
Showing posts with label মুসলিম বর্বরতা. Show all posts

Sunday, May 19, 2013

লাভ জিহাদের পরবর্তী পরিনাম (ধারাবাহিক, কেইসষ্টাডি-৭)



এ বিষয়টি নিয়ে প্রথমপর্ব লেখার শুরুর আমি আমার নেট বন্ধুদের নিকট অগ্রিম ক্ষমা চেয়ে নিয়েছিলাম এজন্য যে কোন সত্যিকারের ঘটনাপুঞ্জি কথামালা লেখার মাধ্যমে তুলে ধরার যে যোগ্যতা থাকা দরকার, তা আমার নেই বলে আমি মনে করি। এমতাবস্থায় আমার অপরিপক্ক লেখামালায় কোন শব্দচয়ন যদি কারো মনে আঘাত দেয় সেজন্য তা আমার জন্য অপরাধ বৈকি। সে অপরাধরোধ থেকেই মা চাওয়া মূল কারণ। আরো অনুরোধ করেছিলাম পোষ্ট গুলি পড়ে যাদের নিয়ে লেখা গুলো লিখছি সে সব ভিকটিম গুলোকে কোন বন্ধু যেন গালিগালাজ না করেন। কিন্তু দেখলাম অনেকেই আমার অনুরোধ রাখেনি।

লেখার শুরুতে তিনটি পর্বে মেয়ে ভিকটিমের বিষয়ে লিখেছিলাম। দেখলাম অনেক ছেলেবন্ধু ভিকটিম সে সব হতভাগ্য বোনদেরকে একতরফা গালিগালাজ করেছেন। এরপর ধারাবাহিত তিনটি পর্বে লিখেছিলাম ভিন্ন ভিন্ন বয়েসী ছেলেদের নিয়ে, দেখছি এখানেও গালিগালাজ চলছে। সুতরাং মন্তব্যে জায়গায় গালি গালাজ না করবার জন্য আবারো অনুরোধ করছি। আমি পুনরায় অনুরোধ করছি, আপনারা লেখা গুলি পড়ে গালিগালাজ না করে আমাকে মতামত পাঠান এ বিষয়ে লেখা চালিয়ে যাব কি না, কিংবা বস্তুনিষ্ঠ লেখার মান কিভাবে আরো উন্নতিন করা যায়। আমি আমার সকল বন্ধুদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি, এ পোষ্ট গুলি পড়ার পর যদি কারো মনে যদি একটু খানি সচেতনতা অনুভব হয়, তাহলে আমি সার্থক বলে মনে করি। যাহোক, আজ হতে পরবর্তী কটি পর্বে পুনরায় কিশোরী মেয়েদের ভালবাসায় আটকে যাওয়ার কাথা আপনাদের জানানোর চেষ্টা করছি।

প্রায় সব বড় ছোট সকল কবি সাহিত্যিকদের লেখামালায় কিশোরীদের কথা নানা ভাবে এসেছে। রবিঠাকুরতো বলেই ফেলেছেন “কিশোরীর প্রথম প্রেম টেকে না, তবে এপ্রেম পরবর্তী জীবনের কোন কালেই নাকি ভুলে না। তিনি আরো বলেছেন, যে সকল পুরুষ মানুষ যদি কোন কিশোরীর প্রথম প্রেম পেয়েছেন কিংবা অনুভব করতে পেছেছেন, সে পূরুষকে ভাগ্যবানই বলতে হবে। কেননা, ঐ পুরুষটিকে কিশোরী সারা জীবন মনে রাখে। আধুনিক বিজ্ঞানও নাকি তাই বলে। কিশোরী মন নিয়ে নানান গবেষনাও হয়। গবেষনা পত্রে প্রায় একটি মজার ব্যাপার লক্ষ্য করা যায়, তাহলো কিশোরীরা প্রায়ই মধ্য বয়স্ক পূরুষের প্রেমে পড়েন। এরকারণ হলো কিশোরী মন হয় স্বপ্নচারী, আর স্বপ্নচারী মন সর্বদা চমৎকারিত্বে আকৃষ্ট হয়। কম বয়েসী পূরুষ থেকে বেশী বয়স্ক পূরুষ সে চমৎকারিত্ব প্রদর্শনে পারদর্শী হয় । সম্ভবতঃ একারনেই কিশোরীরা অধিকবয়স্ক পূরুষের প্রেমে পড়ে।

আমরা যদি ইতিহাসের দিকে লক্ষ্য করি, তাহলে দেখতে পাব পাকিস্তানের জনক কায়েদে আযম জিন্নাহ স্বয়ং ৪০ বছরের অধিক বয়সে তার সমবয়েসী অগ্নি উপাসক বন্ধুর কিশোরী মেয়েকে রতিকে পটিয়ে বিয়ে করে সেই সময়ে জিন্নাহ অমুসলিম বন্ধু মহলে ধিক্কৃত হয়েছিলেন। কথিত আছে, কিশোরী রতির বাবার সাথে বন্ধুত্বে সুবাধে অমুসলিম রতিদের বাড়ীতে জিন্নাহ সাহেবের অবাধে যাতায়াত ছিলো। জিন্নাহ সাহেব যখন মেয়েটিকে প্রথম বন্ধু বাড়ীতে আবিস্কার করেন, তখন মেয়েটির বয়স ছিলো চৌদ্দ বছর। তবে ঐ সময়ের বিখ্যাত এ আইনজ্ঞ মানুষটি কিশোরীটিকে পটিয়ে সাথে সাথে ধর্মান্তর করিয়ে বিয়ে করে ফেলেননি। বরং তিনি রতির বয়স ১৮ হওয়া অবধি ধৈর্য্য ধরে অপেক্ষা করেছিলেন এবং যেদিন রতির বয়স আঠারতে উন্নীত হলো, সেদিনই কায়েদে আযম জিন্নাহ সাহেব রতিকে কোর্টে হাজির করিয়ে এফিডেফিডের মাধ্যমে ধর্মান্তরের ঘোষনাপত্রে স্বাক্ষর করিয়ে কাবিন নামায় স্বাক্ষর করায়\ এঘটনাটি ভারত পাকিস্তান স্বাধীনতা পূর্ব ঘটনা এবং এটি ঐ সময়ের মুসলিম যুব সমাজে ভীষন ভাবে উদ্ভীপ্ত করেছিলো। অনেকেই বলেন, কাযেদে আযম জিন্নাহ সাহেব কর্তৃক বহু ভাবে অসম এ বিয়ের সাথে নাকি সে ১৯৪৭ সালের টু নেশন থিউরী তথা দ্বিজাতি তত্বের একটা সম্পর্ক আছে। আপনাদের জানার জন্য আমি একটু খোলাসা করেই বলি।

আমরা কম বেশী সবাই ভালো করেই জানি ১৭৫৭ সালে বাংলার আম্রকাননে লড ক্লাইভ ও নবাব সিরাজের বাহিনী যুদ্ধের ফলাফলের মাধ্যমে ভারতবর্ষের স্বাধীনতা ইংরাজদের হাতে চলে যায়। বাংলার ইতিহাসখ্যাত এ যুদ্ধে বিশ্বাসঘাতকতা করেছিলেন নবাবে প্রধান সেনাপতি মীর জাফর আলী খা, যিনি একজন খাঁটি মুসলিম ছিলেন। অন্য দিকে মীর মদন ও মোহন লাল নামীয় নবাবের আরো দুজন হিন্দু সেনাধ্যক্ষ ছিলো যারা, যুদ্ধ করতে করতে গিয়ে প্রাণ বির্ষজন দিয়েছেন। ঠিক এর পরবর্তী ১৯৪৭ সালের অগাষ্ট পর্যন্ত ভারত বর্ষের হিন্দুদের ইতিহাস ছিলো ইংরাজদের বিরুদ্ধে নানা ভাবে বিদ্রোহ করিয়ে এদেরকে ভারত থেকে বিতাড়ন করার এবং ভারতবর্ষ মুক্ত করার চেষ্টার ইতিহাস। একারণেই ইংরাজদের বিরুদ্ধে আন্দোলন করে শহীদ স্বদেশীদের তালিকায় হিন্দু স্বদেশী শহীদ ব্যতীত মুসলিম শহীদ পাওয়া ভার। এর অন্যতম কারণ হলো, ঐ সময়ে মুসলিম আলেম ওলামারা ইংরেজী পড়তে চাইতেন না এবং মুসলিমদের ইংরেজী পড়তে নিরুৎসাহিত করতেন। হিন্দুরা বহু আগেই বুঝে গিয়েছিলো, ইংরেজীদের ভারত হতে তাড়াতে হলে ইংরাজদের বুঝতে হবে এবং এদেরকে বুঝতে হলে ইংরেজী শিক্ষায় শিক্ষিত হওয়াটা খুব জরুরী। এ সত্য কথাটি তখকার মুসলিম সমাজ বুঝতে অনেক দেরী করে ফেলেছিলো। তবে বলে রাখা ভাল, গুটি কয়েক মুসলিম সে সময়ে বিলাত ফেরত ইংরাজী শিক্ষায় শিক্ষিত ছিলো এবং এরা ইংরেজী বিরোধী আন্দোলনের অংশীদার হয়েছিলো। ঐ গুটিকয়েকের মধ্যে কায়েদে আযম জিন্নাহ অন্যতম এবং তিনি ইংরাজ বিরোধী আন্দোলনের প্রায় প্রথম ও দ্বিতীয় সারীর নেতাদের দলে ছিলেন।

উল্লেখ করা প্রয়োজন যে, মিঃ জিন্নাহ তার বন্ধুর কিশোরী কন্যার পেছনে প্রায় ৪ বছর সময়কাল লেগেছিলো। এ সময়ের মধ্যে তিনি স্বদেশী আন্দোলনে সম্পূর্ণ রুপে অনুপস্থিত ছিলেন\ রতির ১৮ বছর পূর্ণ এবং তাঁকে কোর্টে নিয়ে বিয়ে ও মধুচন্দ্রিমা পর্ব শেষ করে তিনি যখন রাজনীতির মাঠে ফেরেন, তখন ভারতবর্ষে ইংরাজ বিরোধী আন্দোলন অনেক দূরে চলে গেছিলো এবং ভারতবর্ষ প্রায় মুক্ত হবার পথে ছিলো। ঠিক ঐ সমুর্তে জিন্নাহ সাহেব তার সেই বিখ্যাত টু নেশন থিওরী এপ্লাই করেন, যা ঐ সময়ের মুসলিম সমাজকে আকৃষ্ট করেছিলো। টু নেশন থিওরী তখনকার সময়ের মুসলিম সমাজকে প্রচন্ড ভাবে আকৃষ্ট করবার পেছনে রতিকে ধর্মান্তরকরে নিকাহ করার ঘটনাও কাজ করেছে। কেননা, ঐ সময়ের মুসলিম যুবসমাজ বুঝে নিয়েছিলো, জিন্নাহ সাহেব তাদের আদর্শ হতে পারে। যাহোক, জিন্নাহ সাহেবের চমর সা¤প্রদায়িক থিওরী ঐ সময়ের সংখ্যা লগিষ্ট মুসলিম সমাজকে আকৃষ্ট করার ফলাফল ভারত ও পাকি¯Íান নামে দুটি বাষ্ট্রের জন্ম কম বেশী সবাই জানেন।

এখানে বলে রাখা ভাল যে, জিন্নাহ সাহেব টু নেশন থিওরী কতটা উপমহাদেশের মুসুলমানদের উন্নতির কথা চিন্তা করেছেন তা তর্কের বিষয়, তবে একটা বিষয় নিশ্চিত ভাবে বলা যায় যে, রাজনীতি মূল বিষয় হলো চকৎকারিত্বের মাধ্যমে জনসাধারনের দৃষ্টি আকর্ষণ করা ও তাদের সমর্থন আদায় করা। গবেষকদের ধারণা মিঃ জিন্নাহ সে কাজটিই করেছিলেন এবং তিনি সফলও হয়েছিলেন। যদিও টু নেশন থিওরীর পয়দা আজকের পাকিস্তানকে অনেকে ফাক-ই-স্তান বলে গালি দেয় এবং জিন্নাহ সাহেবের সে থিওরীর যন্ত্রনায় নরম মাটির এ বাংলাদেশেও ধর্মীয় উন্মাদনায় মাঝে মধ্যে ত বিত হয়। যেমনটি আমরা দেখলাম গেল ৫ মার্চ হেফাজতি তান্ডব।। চলবে...

চিত্রগুপ্ত
১৯ মে ২০১৩

Tuesday, May 14, 2013

ইতিহাসের চাপা কান্না শুনতে কি পাও?


বন্ধুরা আজ আপনাদের সামনে তুলে ধরব প্রাচীন ভারতের বিখ্যাত নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ধ্বংসের সেই মর্মান্তিক কাহিনী।



নালন্দা  ভারতের বিহার রাজ্যে অবস্থিত একটি প্রাচীন উচ্চশিক্ষা কেন্দ্র। প্রাচীন নালন্দা মহাবিহার বিহারের রাজধানী পাটনা শহর থেকে ৫৫ মাইল দক্ষিণ-পূর্বে অবস্থিত ছিল। খ্রিষ্টীয় ৪২৭ অব্দ থেকে ১১৯৭ অব্দের মধ্যবর্তী সময়ে নালন্দা ছিল একটি প্রসিদ্ধ  শিক্ষাকেন্দ্র। এই মহাবিহারকে "ইতিহাসের শ্রেষ্ঠ প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়গুলির অন্যতম" বলে মনে করা হয়। এখানকার কয়েকটি সৌধ মৌর্য সম্রাট অশোক নির্মাণ করেছিলেন। গুপ্ত সম্রাটরাও এখানকার কয়েকটি মঠের পৃষ্ঠপোষক ছিলেন। ঐতিহাসিকদের মতে, গুপ্ত সম্রাট শক্রাদিত্যের (অপর নাম কুমারগুপ্ত, রাজত্বকাল ৪১৫-৫৫) রাজত্বকালে নালন্দা মহাবিহারের বিকাশলাভ ঘটে। পরবর্তীকালে বৌদ্ধ সম্রাট হর্ষবর্ধন ওপাল সম্রাটগণও এই মহাবিহারের পৃষ্ঠপোষক হয়েছিলেন।১৪ হেক্টর আয়তনের মহাবিহার চত্বরটি ছিল লাল ইঁটে নির্মিত। খ্যাতির মধ্যগগনে থাকাকালীন অবস্থায় চীন, গ্রিস ও পারস্য থেকেও শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা করতে আসতেন বলে জানা যায়। ১১৯৩ খ্রিষ্টাব্দে তুর্কি মুসলমান আক্রমণকারী বখতিয়ার খিলজি নালন্দা মহাবিহার লুণ্ঠন ও ধ্বংস করেন। এই ঘটনা ভারতে বৌদ্ধধর্মের পতনের ইতিহাসে একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা বলে বিবেচিত হয়। ২০০৬ সালে ভারত, চীন,সিঙ্গাপুর, জাপান ও অন্যান্য কয়েকটি রাষ্ট্র যৌথভাবে এই সুপ্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়টির পুনরুজ্জীবনের প্রকল্প গ্রহণ করে। নতুন বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম স্থির হয়েছে নালন্দা আন্তর্জাতিক বিশ্ববিদ্যালয়। এটি প্রাচীন নালন্দা মহাবিহারের ধ্বংসাবশেষের নিকট নির্মিত হবে।

"নালন্দা" শব্দটির অর্থ "দানে অকৃপণ"।
চীনা তীর্থযাত্রী সন্ন্যাসী হিউয়েন সাঙ নালন্দা নামের বিবিধ ব্যাখ্যা প্রদান করেছেন। তাঁর একটি মত হল, এই নামটি স্থানীয় আম্রকুঞ্জের মধ্যবর্তী পুষ্করিণীতে বসবাসকারী একটি নাগের নাম থেকে উদ্ভুত। কিন্তু যে মতটি তিনি গ্রহণ করেছেন, সেটি হল,শাক্যমুনি বুদ্ধ একদা এখানে অবস্থান করে "অবিরত ভিক্ষাপ্রদান" করতেন; সেই থেকেই এই নামের উদ্ভব।
সারিপুত্তর মৃত্যু হয়েছিল "নালক" নামে এক গ্রামে। কোনো কোনো গবেষক এই গ্রামটিকেই "নালন্দা" নামে অভিহিত করেন।

নালন্দা পৃথিবীর প্রথম আবাসিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যে একটি এবং এটি ইতিহাসের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর মধ্যেও একটি। এর স্বর্ণযুগে ১০,০০০ এর অধিক শিক্ষার্থী এবং ২,০০০ শিক্ষক এখানে জ্ঞান চর্চা করত। একটি প্রধান ফটক এবং সুউচ্চ দেয়ালঘেরা বিশ্ববিদ্যালয়টি স্থাপত্যের একটি মাস্টারপিস হিসেবে সুপরিচিত ছিল।বিশ্ববিদ্যালয়ে আটটি ভিন্ন ভিন্ন চত্বর(compound) এবং দশটি মন্দির ছিল; ছিল ধ্যান করার কক্ষ এবং শ্রেনীকক্ষ। প্রাঙ্গনে ছিল কতগুলো দীঘি ও উদ্যান। বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগারটি ছিল একটি নয়তলা ভবন যেখানে পাণ্ডুলিপি তৈরি করা হত অত্যন্ত সতর্কতার সাথেধর্মের পাশাপাশি বেদ _উপনিশদ, বিতর্ক, দর্শন, যুক্তিবিদ্যা, ব্যাকরণ, সাহিত্য, গণিত, জ্যোতিষ বিদ্যা, শিল্প কলা, চিকিৎসাশাস্ত্র সহ তৎকালীন সর্বোচ্চ শিক্ষা ব্যাবস্থার উপযোগী আরো বিভিন্ন বিষয় সম্পর্কে নিয়মিত পাঠ দান চলত এখানে।। তৎকালীন জ্ঞান বিজ্ঞানের সকল শাখাতেই চর্চার সুযোগ থাকায় সুদূর কোরিয়া, জাপান, চীন, তিব্বত,ইন্দোনেশিয়া, পারস্য এবং তুরস্ক থেকে জ্ঞানী ও জ্ঞান পিপাসুরা এখানে ভীড় করতেন। চীনের ট্যাং রাজবংশের রাজত্বকালে চৈনিক পরিব্রাজক জুয়ানঝাং ৭তম শতাব্দিতে নালন্দার বিস্তারিত বর্ণনা লিখে রেখে গেছেন।


নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠাগার ধর্ম গুঞ্জ বা ধর্মগঞ্জ সেই সময়ে বৌদ্ধজ্ঞানের সবচেয়ে প্রসিদ্ধ ভান্ডার হিসাবে সুপরিচিত ছিল। পাঠাগারে ছিল শত শত হাজার হাজার পুঁথি,। পাঠাগারের মূল ভবন ছিল তিনটি যার প্রত্যেকটি প্রায় নয়তলা ভবনের সমান উঁচু; ভবনগুলো রত্নসাগররত্নদধি ও রত্নরঞ্জক নামে পরিচিত ছিল।
নালন্দার লাইব্রেরী


শত শত বছর ধরে অবদান রেখে আসা একটি সভ্য, উন্নত জাতি তৈরী ও জ্ঞান উৎপাদনকারী নিরীহ এই প্রতিষ্ঠানটি ১১৯৩ খ্রষ্টাব্দে তুর্কি সেনাপতি ইখতিয়ার উদ্দীন মুহাম্মদ বিন বখতিয়ার খিলজী আক্রমন করে ধ্বংস করে ফেলেন। তার আক্রমনের বর্বরতা এত ভয়াবহ আকারে ছিল এ সম্পর্কে পারস্য ইতিহাসবিদ মিনহাজ তাঁর “তাবাকাতে নাসিরি” গ্রন্থে লিখেছেন “হাজার হাজার বৌদ্ধ ভিক্ষুকে আগুনে পুড়িয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে সেখানে ইসলাম প্রচারের চেষ্টা করেন খিলজী” এরপর আগুন লাগিয়ে দেন লাইব্রেরীর ভবন গুলোতে। লাইব্রেরীতে বইয়ের পরিমান এত বেশী ছিল যে কয়েক মাস সময় লেগেছিল সেই মহা মূল্যবান বই গুলো পুড়ে ছাই ভষ্ম হতে(জনশ্রুতি আছে ছয় মাস) খিলজী শুধু নালন্দাকে পুড়িয়ে ছাই করেন নি, একই সাথে পুড়িয়ে ছাই করেছেন একটি জাতির সভ্যতা, ইতিহাস, প্রাচীন জ্ঞান বিজ্ঞানের অমূল্য বই যা থেকে আমরা জানতে পারতাম সে যুগের ভারত বর্ষের শিক্ষার অবকাঠামো, তৎকালীন সামাজিক-সাংষ্কৃতিক অবস্থা ও প্রাচীন জ্ঞান-বিজ্ঞানের অগ্রগতি সম্পর্কে। জাতি হিসাবেও হয়তো আমাদের পিছিয়ে দিয়েছে সহস্র বছর। সেদিন তার ধারালো তরবারির নিষ্ঠুর আঘাতে ফিনকি দিয়ে ছোটা রক্ত বন্যার স্রোতে ভেসে যাওয়া নিরস্ত্র মানুষের আর্ত চিৎকারে ও জীবন্ত মানুষ পোড়া গন্ধের সাথে বাতাসে ভেসে আসা বাচঁতে চাওয়া ঝলসানো সাধারণ মানুষ গুলোর করুণ আর্তনাদে স্তব্ধ হয়েছিল একটি সভ্য জাতির অগ্রযাত্রা।খিলজীর এই পাশবিক নিষ্ঠুর বর্বরতাও পরিচিতি পায় এক শ্রেণীর ধর্মান্ধদের চোখে ধর্মীয় বিজয় হিসাবে! আর আমাদের পাঠ্য পুস্তক গুলোতে এই নির্মম, নিষ্ঠুর বখতিয়ার খলজিকে নায়ক হিসেবে দেখান হয়। ভাবতেই অবাক লাগে কিভাবে ইতিহাস্কে বিকৃত করা হয়। চেষ্টা করা হয়্য নালন্দার ইট কাঠ পাথরের চাপা কান্না আর আহাকার যেন আমাদের কানে না পৌছাতে পারে। 

কিছু কিছু স্থাপনা এখনো টিকে আছে, যেমন নিকটবর্তী সূর্য মন্দির যা একটি হিন্দু মন্দির। মোট ১৫,০০০ বর্গ মিটার এলাকায় খননকার্য চলানো হয়েছে, অবশ্য যদি জুয়ানঝাংয়েরহিসাব সঠিক হয় তাহলে মাত্র ১০% জায়গায় এখন পর্যন্ত খননকার্য চালানো হয়েছে।
নালন্দায় এখন কেউ বাস করে না, নিকটবর্তী জনবসতি বড়গাঁও নামক গ্রামে।

নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় ছিল হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের প্রায় সকল ধর্ম গ্রন্থের সংগ্রহ শালা। বিশেষ করে বেদ আর উপনিষদের উপর আলোচনা, ব্যাখ্যা, বিশ্লেষণ গুলো অত্যন্ত সতর্কতা ও যত্নের সাথে সংরক্ষন করা হয়। এই পুস্তক গুলো ধ্বংসের ফলে পরবর্তীতে হিন্দু ধর্মে নানা কু প্রথা- আচার স্থান পায়। যার প্রভাব এখন রয়ে গেছে হিন্দু ধর্মে।

নালন্দায়  ধর্মীয় বিজয় সফল হলেও লজ্জিত হয় মানবতা, পরাজিত হয় সভ্যতা, শৃঙ্খলিত হয় শিক্ষা।
এভাবে উগ্র ধর্মীয় উন্মাদনা, আক্রোশ, বিদ্বেষ ও প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে পৃথিবী থেকে বিলুপ্তি ঘটিয়েছিল ধর্মান্ধরা কয়েকশ বছর ধরে মানব সভ্যতাকে আলোর পথ দেখানো মানুষ গড়া্র এই কারখানাটিকে।

কৃতজ্ঞতাঃ মুক্তমনা ব্লগ,উইকিপিডিয়া

সোমনাথ মন্দির , অজানা কথা আর আমাদের নিরবতা


মন্দির মসজিদ ভাঙ্গার কথা আসলেই তথাকথিত মোডারেট মুসলিমরা বাবারি মসজিদের রেফারেন্স দেয়। যদিও ভারতের অযোধ্যায় অবস্থিত বাবরী মসজিদটি পুরবে রাম মন্দির ছিল। হিন্দু বিদ্বেষী মোঘল বাবর তা ধ্বংস করে মন্দিরের কাঠামতেই মসজিদ তৈরি করেছিল। এ কথা সত্য যে মুসলিমদের ধ্বংস করা সব মন্দিরই ছিল সম্পদে ঐশ্বর্যশালী।পরবর্তীতে বাবরী মসজিদের জায়গা হিন্দু- মুসলিম- আর জৈনদের ভাগ করে দেওয়া হয়। এক বার চিন্তা করে দেখুনতো আরবের কোন দেশে এরকম সম্ভব কিনা। শুধু সেকুলার ভারত বলে তা হয়েছে ।অযোধ্যার রাম মন্দিরের মতই আর একটা মন্দির গুজরাটের সোমনাথ মন্দির। যেহেতু এই মন্দির নিয়ে রাজনীতি করা সম্ভব হয়নি তাই এর মর্মস্পর্শী কাহিনী বলা হয় না।সোমনাথ মন্দির ভারতের একটি প্রসিদ্ধ শিব মন্দির। গুজরাট রাজ্যের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত সৌরাষ্ট্র অঞ্চলের বেরাবলের নিকটস্থ প্রভাস ক্ষেত্রে এই মন্দির অবস্থিত। এটি হিন্দু দেবতা শিবের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে পবিত্রতম। সোমনাথ শব্দটির অর্থ “চন্দ্র দেবতার রক্ষাকর্তা”। সোমনাথ মন্দিরটি ‘চিরন্তন পীঠ’ নামে পরিচিত। কারণ অতীতে ছয় বার ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও মন্দিরটি সত্বর পুনর্নিমিত হয়হিন্দু পুরাণ অনুসারে, দক্ষ প্রজাপতি কর্তৃক অভিশপ্ত হয়ে চন্দ্র প্রভাস তীর্থে শিবের আরাধনা করলে, শিব তাঁর অভিশাপ অংশত নির্মূল করেন। এই কারণে চন্দ্র সোমনাথে শিবের একটি স্বর্ণমন্দির নির্মাণ করেন। পরে রাবণ রৌপ্য ও কৃষ্ণ চন্দনকাষ্ঠ দ্বারা মন্দিরটি পুনর্নিমাণ করেছিলেন বলে বিশ্বাস। গুজরাটের সোলাঙ্কি শাসক ভীমদেব মন্দিরটি নির্মাণ করেন প্রস্তরে। প্রসঙ্গত, সোলাঙ্কি ছিল ভারতের পাঁচ রাজপুত রাজ্যের অন্যতম

বর্তমানে সোমনাথ মন্দির


গুজরাটের বল্লভীর যাদব রাজারা ৬৪৯ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় মন্দিরটি নির্মাণ করে দেন। ৭২৫ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধের আরব শাসনকর্তা জুনায়েদ তাঁর সৈন্যবাহিনী পাঠিয়ে এই মন্দিরটি ধ্বংস করে দেন। তারপর ৮১৫ খ্রিস্টাব্দে গুজ্জর প্রতিহার রাজা দ্বিতীয় নাগভট্ট সোমনাথের তৃতীয় মন্দিরটি নির্মাণ করান। এই মন্দিরটি ছিল লাল বেলেপাথরে নির্মিত সুবিশাল একটি মন্দির।
সোমনাথ মন্দির

১০২৪ খ্রিস্টাব্দে মামুদ গজনি আরেকবার মন্দিরটি ধ্বংস করেন। ১০২৬ থেকে ১০৪২ খ্রিস্টাব্দের মাঝে কোনো এক সময়ে গুজ্জর পরমার রাজা মালোয়ার ভোজ ও সোলাঙ্কি রাজা আনহিলওয়ারার প্রথম ভীমদেব আবার মন্দিরটি নির্মাণ করান। এই মন্দিরটি ছিল কাঠের তৈরি। কুমারপাল (রাজত্বকাল ১১৪৩-৭২) কাঠের বদলে একটি পাথরের মন্দির তৈরি করে দেন।১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির সৈন্যবাহিনী পুনরায় মন্দিরটি ধ্বংস করে। হাসান নিজামির তাজ-উল-মাসির লিখেছেন, গুজরাটের রাজা করণ পরাজিত হন, তাঁর সেনাবাহিনী পলায়ন করে, "পঞ্চাশ হাজার কাফেরকে তরবারির আঘাতে নরকে নিক্ষেপ করা হয়" এবং "বিজয়ীদের হাতে আসে কুড়ি হাজারেরও বেশি ক্রীতদাস ও অগণিত গবাদি পশু"। ১৩০৮ খ্রিস্টাব্দে সৌরাষ্ট্রের চূড়াসম রাজা মহীপাল দেব আবার মন্দিরটি নির্মাণ করান। তাঁর পুত্র খেঙ্গর ১৩২৬ থেকে ১৩৫১ সালের মাঝে কোনো এক সময়ে মন্দিরে শিবলিঙ্গটি প্রতিষ্ঠা করেন।১৩৭৫ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের সুলতান প্রথম মুজফফর শাহ আবার মন্দিরটি ধ্বংস করেন। মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হলে ১৪৫১ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের সুলতান মাহমুদ বেগদা আবার এটি ধ্বংস করে দেন।কিন্তু এবারও মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হয়। ১৭০১ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব মন্দিরটি ধ্বংস করেন। আওরঙ্গজেব সোমনাথ মন্দিরের জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। এই মসজিদে হিন্দু শাস্ত্র-ভিত্তিক মোটিফগুলি সম্পূর্ণ ঢাকা পড়েনি।পরে ১৭৮৩ সালে পুণের পেশোয়া, নাগপুরের রাজা ভোঁসলে, কোলহাপুরের ছত্রপতি ভোঁসলে, ইন্দোরের রানি অহল্যাবাই হোলকর ও গোয়ালিয়রের শ্রীমন্ত পাতিলবুয়া সিন্ধের যৌথ প্রচেষ্টায় মন্দিরটি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। তবে মূল মন্দিরটি মসজিদে পরিণত হওয়ায় সেই জায়গায় মন্দির প্রতিষ্ঠা করা যায় নি। মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ধ্বংসাবশেষের পাশে[সম্পাদনা]আসারু-ল-বিলাদ

সোমনাথ মন্দিরের ধ্বংসবাশেশ(১৮৬৯ সাল)

মন্দির থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা অংশ

গজনির সুলতান মামুদের সমাধির একটি চিত্র। ১৮৩৯-৪০ সালে অঙ্কিত। এই সমাধির চন্দনকাঠের দরজাগুলিকে সোমনাথ মন্দির থেকে লুণ্ঠন করা বলে মনে করা হত। ১০২৪ সালে তিনি সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করেছিলেন। 



 নিচের উদ্ধৃতিটি তেরো শতকের আরব ভূগোলবিদ আসারু-ল-বিলাদের লেখা ওয়ান্ডারস অফ থিংস ক্রিয়েটেড, অ্যান্ড মার্ভেলস অফ থিংস এক্সিস্টিং বই থেকে নেওয়া। এতে সোমনাথ মন্দির ও তার ধ্বংসের বিবরণ পাওয়া যায়:“সোমনাথ: ভারতের বিখ্যাত শহর, সমুদ্রের উপকূলে অবস্থিত এবং সমুদ্রের তরঙ্গবিধৌত। এই স্থানের বিস্ময়কর স্থানগুলির মধ্যে একটি হল এক মন্দির যেখানে সোমনাথ নামে একটি বিগ্রহ রয়েছে। বিগ্রহটি মন্দিরের মাঝখানে নিচের কোনোরকম ঠেকনা ছাড়াই উপর থেকে ঝুলে রয়েছে। হিন্দুরা এটিকে খুব শ্রদ্ধা করে। বিগ্রহটিকে ওভাবে ঝুলতে দেখে মুসলমানই হোক, আর কাফেরই হোক, সবাই আশ্চর্য হয়ে যায়। চন্দ্রগ্রহণের দিন হিন্দুরা এই মন্দিরে তীর্থ করতে আসে। সেই সময় লক্ষ লক্ষ লোক এই মন্দিরে ভিড় জমান।"“সুলতান ইয়ামিনু-দ দৌলা মাহমুদ বিন সুবুক্তিগিন ভারতের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ ঘোষণা করলেন। তিনি ভেবেছিলেন সোমনাথ ধ্বংস করে দিলেই হিন্দুদের মুসলমান করা যাবে। তাই তিনি সোমনাথ ধ্বংস করার ব্যাপারে বিশেষভাবে যত্নবান হন। এর ফলে হাজার হাজার হিন্দুকে জোর করে মুসলমান করা হয়। তিনি ৪১৬ হিজরির জিল্কাদা মাসের মাঝামাঝি সময় (১০২৫ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে) এসেছিলেন। "বিহগ্রের দিকে সুলতান আশ্চর্য হয়ে চেয়ে রইলেন। তারপর লুটের মাল নিয়ে যাওয়ার হুকুম দিলেন। ধনসম্পদ তাঁর খুব পছন্দ হয়েছিল। সেখানে সোনা ও রুপো দিয়ে তৈরি অনেক মূর্তি ছিল। রত্নখচিত অনেক পাত্র ছিল।ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সেসব বিভিন্ন সময়ে ডান করেছিলেন।



স্বাধীনতার আগে, প্রভাস পত্তন ছিল দেশীয় রাজ্য জুনাগড়ের অংশ। জুনাগড়ের ভারতভুক্তির পর ১৯৪৭ সালের ১২ নভেম্বর ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল জুনাগড়-পুনর্গঠনের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে উপযুক্ত নির্দেশ দিতে আসেন। সেই সময়ই তিনি সোমনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণের আদেশ দেন।সর্দার প্যাটেল, কে এম মুন্সি ও কংগ্রেসের অন্যান্য নেতারা সোমনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে মহাত্মা গান্ধীর কাছে গেলে, গান্ধীজি তাঁদের আশীর্বাদ করেন। তবে তিনি বলেন, মন্দির নির্মাণের খরচ যেন সরকার বহন না করে। তিনি জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের পরামর্শ দেন। পুনর্নির্মাণের কাজে যুক্ত হতে পেরে তিনি নিজে গর্বিত, এমন কথাও বলেন। কিন্তু তারপরই গান্ধীজি ও সর্দার প্যাটেলের মৃত্যু হলে, নেহেরু সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী কে এম মুন্সি একাই মন্দির পুনর্নির্মাণের কাজটি এগিয়ে নিয়ে চলে১৯৫০ সালের অক্টোবর মাসে ধ্বংসাবশেষ সাফ করে ফেলা হয়। আওরঙ্গজেব নির্মিত মসজিদটি কয়েক মাইল দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৫১ সালের মে মাসে কে এম মুন্সির আমন্ত্রণে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ মন্দিরের শিলান্যাস করেন। রাজেন্দ্র প্রসাদ তাঁর ভাষণে বলেন, "যেদিন শুধুমাত্র এই ভিত্তির উপর এক অসামান্য মন্দিরই নির্মিত হবে না, বরং প্রাচীন সোমনাথ মন্দির ভারতের যে ঐশ্বর্যের প্রতীক ছিল, সেই ঐশ্বর্য ভারত ফিরে পাবে, সেইদিনই আমার দৃষ্টিতে সোমনাথ মন্দির পুননির্মিত হবে।" তিনি আরও বলেন, "ধ্বংসের শক্তির চেয়ে যে সৃষ্টির শক্তি মহৎ তার প্রতীক সোমনাথ মন্দির।"এই সময় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ ও কে এম মুন্সির মধ্যে এক মতান্তর দেখা দেয়। নেহেরু এই মন্দির পুনর্নির্মাণকে হিন্দু পুনর্জাগরণ আন্দোলন হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজেন্দ্র প্রসাদ ও কে এম মুন্সি মনে করেছিলেন, এই মন্দির পুনর্নির্মাণ স্বাধীনতার ফলস্রুতি এবং অতীতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে হওয়া অবিচারের প্রতিকার।সোমনাথ মন্দির বর্তমানে শ্রীসোমনাথ ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত হয়।
মন্দিরের সাম্প্রতিক রূপ

 শুধু ভারত বলেই যারা মন্দিরের ধ্বংস করেছিল তাদের জন্যে আবার মসজিদ তৈরি করে দেউয়া হয়েছিল। চিন্তা করে দেখুন হিন্দুদের যে নির্যাতন করা হয়েছিল সেরূপ নির্যাতন যদি অন্য কোন মুসলিম প্রধান দেশে মুসলিমদের করা হত আর পরবর্তীতে মুসলিমরা ক্ষমতা ফিরে পেলে তাঁরা কি করত।

Labels

বাংলা (170) বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন (22) ethnic-cleansing (17) ভারতীয় মুসলিমদের সন্ত্রাস (17) islamic bangladesh (13) ভারতে হিন্দু নির্যাতন (12) : bangladesh (11) হিন্দু নির্যাতন (11) সংখ্যালঘু নির্যাতন (9) সংখ্যালঘু (7) আরব ইসলামিক সাম্রাজ্যবাদ (6) minority (5) নোয়াখালী দাঙ্গা (5) হিন্দু (5) hindu (4) minor (4) নরেন্দ্র মোদী (4) বাংলাদেশ (4) বাংলাদেশী মুসলিম সন্ত্রাস (4) ভুলে যাওয়া ইতিহাস (4) love jihad (3) গুজরাট (3) বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন (3) বিজেপি (3) ভারতে অনুপ্রবেশ (3) মুসলিম বর্বরতা (3) হিন্দু নিধন (3) George Harrison (2) Julia Roberts (2) List of converts to Hinduism (2) bangladesh (2) কলকাতা (2) গুজরাট দাঙ্গা (2) বাবরী মসজিদ (2) মন্দির ধ্বংস (2) মুসলিম ছেলেদের ভালবাসার ফাঁদ (2) লাভ জিহাদ (2) শ্ত্রু সম্পত্তি আইন (2) সোমনাথ মন্দির (2) হিন্দু এক হও (2) হিন্দু মন্দির ধ্বংস (2) হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা (2) Bhola Massacre (1) English (1) april fool. মুসলিম মিথ্যাচার (1) converted hindu celebrity (1) converting into hindu (1) dharma (1) facebook (1) gonesh puja (1) gujrat (1) gujrat riot (1) jammu and kashmir (1) om (1) religion (1) roth yatra (1) salman khan (1) shib linga (1) shib lingam (1) swami vivekanada (1) swamiji (1) অউম (1) অক্ষরধাম মন্দিরে জঙ্গি হামলা ২০০২ (1) অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী (1) অর্পিত সম্পত্তি আইন (1) আওরঙ্গজেব (1) আদি শঙ্কর বা শঙ্করাচার্য (1) আর্য আক্রমণ তত্ত্ব (1) আসাম (1) ইতিহাস (1) ইয়াকুব মেমন (1) উত্তরপ্রদেশ (1) এপ্রিল ফুল (1) ওঁ (1) ওঁ কার (1) ওঁম (1) ওম (1) কবি ও সন্ন্যাসী (1) কাদের মোল্লা (1) কারিনা (1) কালীঘাট মন্দির (1) কাশী বিশ্বনাথ মন্দির (1) কৃষ্ণ জন্মস্থান (1) কেন একজন মুসলিম কোন অমুসলিমের বন্ধু হতে পারে না? (1) কেন মুসলিমরা জঙ্গি হচ্ছে (1) কেশব দেও মন্দির (1) খ্রিস্টান সন্ত্রাসবাদ (1) গনেশ পূজা (1) গুজরাটের জঙ্গি হামলা (1) জাতিগত নির্মূলীকরণ (1) জামাআ’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (1) জেএমবি (1) দেশের শত্রু (1) ধর্ম (1) ধর্মযুদ্ধ (1) নবদুর্গা (1) নববর্ষ (1) নালন্দা (1) নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় (1) নোয়াখালি (1) পঞ্চ দেবতার পূজা (1) পহেলা বৈশাখ (1) পহেলা বৈশাখ কি ১৪ এপ্রিল (1) পাকিস্তানী হিন্দু (1) পূজা (1) পূজা ও যজ্ঞ (1) পূজার পদধিত (1) পৌত্তলিকতা (1) ফেসবুক (1) বখতিয়ার খলজি (1) বরিশাল দাঙ্গা (1) বর্ণপ্রথা (1) বর্ণভেদ (1) বলিউড (1) বাঁশখালী (1) বিহার (1) বুদ্ধ কি নতুন ধর্ম প্রচার করেছেন (1) বৈদিক ধরম (1) বৌদ্ধ দর্শন (1) বৌদ্ধ ধর্ম (1) ভারত (1) মথুরা (1) মরিচঝাঁপি (1) মানব ধর্ম (1) মিনি পাকিস্তান (1) মীরাট (1) মুক্তমনা (1) মুক্তিযুদ্ধ (1) মুজাফফরনগর দাঙ্গা (1) মুম্বাই ১৯৯৩ (1) মুলতান সূর্য মন্দির (1) মুলায়ম সিং যাদব (1) মুসলিম তোষণ (1) মুসলিম ধর্ষক (1) মুসলিমদের পুড়ে মারার ভ্রান্ত গল্প (1) মুহাম্মদ বিন কাশিম (1) মূর্তি পুজা (1) যক্ষপ্রশ্ন (1) যাদব দাস (1) রথ যাত্রা (1) রথ যাত্রার ইতিহাস (1) রবি ঠাকুর ও স্বামীজী (1) রবি ঠাকুরের মা (1) রবীন্দ্রনাথ ও স্বামীজী (1) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1) রিলিজিওন (1) রুমি নাথ (1) শক্তিপীঠ (1) শঙ্করাচার্য (1) শিব লিংগ (1) শিব লিঙ্গ (1) শিব লিঙ্গ নিয়ে অপপ্রচার (1) শ্রীকৃষ্ণ (1) সনাতন ধর্ম (1) সনাতনে আগমন (1) সাইফুরস কোচিং (1) সালমান খান (1) সোমনাথ (1) স্বামী বিবেকানন্দ (1) স্বামীজী (1) হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্ম (1) হিন্দু জঙ্গি (1) হিন্দু ধর্ম (1) হিন্দু ধর্ম গ্রহন (1) হিন্দু বিরোধী মিডিয়া (1) হিন্দু মন্দির (1) হিন্দু শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাই (1) হিন্দুধর্মে পৌত্তলিকতা (1) হিন্দুরা কি পৌত্তলিক? (1) ১লা বৈশাখ (1) ১৯৭১ (1)

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Blogger Tips and TricksLatest Tips And TricksBlogger Tricks

সর্বোচ্চ মন্তব্যকারী