শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুন

শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুন
অর্জুন তোমার আমার বহুবার জন্ম হয়েছে। সে কথা তোমার মনে নেই, সবই আমার মনে আছে।
Showing posts with label বাবরী মসজিদ. Show all posts
Showing posts with label বাবরী মসজিদ. Show all posts

Thursday, May 1, 2014

মুসলিম মায়াকান্নাঃ বাবরী মসজিদ স্থলে রাম মন্দির পুনঃস্থাপনের চেষ্টা


ভারতে সবচেয়ে বহুল আলোচিত ঘটনা হল রামজন্মভূমি অযোধ্যার তথাকথিত বাবরি মসজিদের স্থলে রাম মন্দির পুনঃস্থাপনের চেষ্টার ঘটনা। ওটা কি সত্যিই মসজিদ ছিল? লেখা শুরুর আগে বলে দিতে চাই, ব্যক্তিগত ভাবে বাবরী মসজিদকে আমি ঐতিহাসিক স্থাপনা তথা প্রত্নতাত্ত্বিক সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করি, এবং এটা ভাঙ্গা মোটেই সমর্থন যোগ্য নয়। কিন্তু এই ঘটনাকে নিয়ে বছরের পর বছর ধরে যে রাজনীতি করা হয়, রাজনীতির হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয় তার জবাব হিসেবে এই লেখা।

আমাদের সাধারন দৃষ্টিতে যেখানে নামাজ পড়া হয় না, তা কখনও মসজিদ পদবাচ্য হতে পারে না। পরিত্যক্ত 'বাবরি মসজিদে আর নামাজা পড়া হয় নি, বরং হিন্দু পুরোহিত সেখানে পুজো করতেন। ১৯৪৭ সালের পর থেকে সরকারের বেতনভুক কর্মচারী সেখানে পুজো করত। যাই হোক ওটি কখনওই মসজিদ নয়। বরং মন্দির। কিন্তু এক শ্রেণীর সেকুলার তাকে মন্দির বলে স্বীকার করতে নারাজ। তাই ভারতের পার্লামেন্টে 'বাবরি মসজিদ' কে কন্ট্রোভার্সিয়াল স্ট্রাকচার বা বিতর্কিত সৌধ বলে উল্লেখ করা হয়।

মসজিদের যে ছবিটি দেখছেন তা দেখলেই বুঝতে পারবেন পরিত্যাক্ত,ধূসর, মলিন, দেয়ালে শেওলা পড়া,মাটির ঢিবি হিসেবে টিকে থাকা পরিত্যাক্ত ওই স্থানটির গুরুত্ব হঠাৎ করে বেড়ে গিয়েছিল ওটা ভাঙ্গার পরই।যে স্থানে কোন দিন কোন মুসলিম ভুলেও ঢুকত না সেটি তখন হয়ে ওঠে তাদের কাছে পবিত্র ধর্মস্থান।হাস্যকরই বটে। এখন সেখানে মুসলিমরা নামাজ পড়তে চায়,মসজিদ বানাতে চায়। অথচ এটা নিয়ে লজ্জিত হওয়া উচিত ছিল মুসলিমদের।মসজিদটি ১৫২৭ খ্রীষ্টাব্দে ভারতের প্রথম মুঘল সম্রাট বাবরের আদেশে হিন্দু স্থাপনা ভেঙ্গে নির্মিত হয় এবং তার নাম অনুসারে নাম করন করা হয়।এর পর কালের আবর্তে ব্রিটিশ শাসনের আগে থেকে বছরের পর বছর মুসলিম সম্প্রদায় কর্তৃক পরিত্যক্ত অবস্থায় ছিল এটি।

বাবরী মসজিদের জায়গাতে যে মন্দির ছিল তা প্রত্নতত্ত্ব পরীক্ষায়ও নিশ্চিত ভাবে প্রমানিত হয়।২০০৩ সালে আদালতের আদেশক্রমে প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ বাবরী মসজিদের উপর প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা শুরু করে এবং সেখানে যে রিপোর্ট দেয়া হয় সেখানে স্পষ্ট বলা হয়েছে, খননকাজের পর স্পষ্ট দক্ষিনভারতীয় রিতির মন্দিরের নিদর্শনের দেখা মিলেছে। পাথর,কারুকার্যময় ইট,জলপাত্র,ফুলপাতার কারুকাজ, পদ্ম ফুলের কারুকাজ, এগুলোর সন্ধান মিলেছে।

ক/http://www.rediff.com/news/2003/aug/25ayo1.htm
খ/http://en.wikipedia.org/wiki/Babri_Mosque#Archaeological_Survey_of_India_report

১৯৯২ সালে জনরোষে যখন বিতর্কিত স্থাপনা সমূহ সরিয়ে রাম মন্দির পুনঃস্থাপনের চেষ্টা করা হয় সেখান থেকে এখনও পর্যন্ত ১১ থেকে ১২ শতকের ২৬৫ টি দেবনাগরী অক্ষরে লেখা ফলক উদ্ধার করা হয়েছে। প্রত্নতত্ত্ব বিভাগ ২০০৩ সালের ১২ মার্চ থেকে ৭ আগস্ট পর্যন্ত খনন কাজ চালায় এবং ১৩৬০ টি বস্তু সেখান থেকে সংগ্রহ করে। ৫৭৪ পৃষ্ঠার রিপোর্টে স্পষ্ট ভাবে বলা হয়, বাবর নির্মিত তথাকথিত মসজিদের নিচে সুবৃহৎ হিন্দু স্থাপত্যের নিদর্শন বিদ্যমান।এমনকি ওই স্থানে মানুষের অবস্থা খ্রিস্টপূর্ব ১৩ শতকের সময় থেকে যা কার্বন ডেটিং পরিক্ষার মাধ্যমে প্রমানিত।মজার ব্যপার হল খ্রিস্টপূর্ব ১৩ শতকে ভারতবর্ষে তো দুরের কথা ইতিহাসেই ইসলাম বলে কিছু খুজে পাওয়া যায় না। http://en.wikipedia.org/wiki/Babri_Mosque#Archaeological_Survey_of_India_report

এই লেখার সব থেকে গুরুত্বপূর্ণ অংশ এই প্যারাটি। বাবরী মসজিদের রায় হয় এলাহবাদ কোর্টে ২০১০ সালে ৩০ সেপ্টেম্বর।তিন জন বিচারকের সমন্বয়ে গড়া বেঞ্চ এ রায় প্রদান করেন। বিচারক তিনজন হলেন, বিচারপতি এস আর আলাম, বিচারপতি ভানওয়ার সিং এবং বিচারপতি খেমাকারন। রায়ে তিন জন বিচারকই স্পষ্ট করে দেন যে, বাবরী মসজিদ স্থলে আগে বৃহৎ হিন্দু স্থাপত্য ছিল। এ রায়ের ফলে ওই স্থান সমান তিন ভাগে ভাগ করে দেয়া হয় হিন্দু মহাসভা,সুন্নি ওআকফ বোর্ড ও নিরমহি আখড়ার মধ্যে।

অবশ্য আমি মনে করি বাবরি একটা প্রাচীন নিদর্শন, এখানে পুনরায় রাম মন্দির নির্মাণের চেষ্টা করা উচিত হয় নি। কিন্তু এটাও দেখার বিষয় যে এই ঘটনায় সেখানকার মুসলিম জনসাধারণের জানমালের কোন ক্ষতি হয় নি। আর এই ঘটনার পরও মুসলিম অধ্যুষিত অযোধ্যার মানুষ বিজেপিকেই (বাবরি কান্ডের জন্য যে দলকে দায়ী করা হয়) ভোট দিয়ে জিতিয়েছে।

কিন্তু বাবরি পরবর্তী সন্ত্রাসে হাজার হাজার হিন্দুকে ভারত ও বাংলাদেশে (বিশেষ করে বাংলাদেশে) মারা হয়েছে, তাদের ঘরবাড়ি জ্বালানো হয়েছে, লুটপাট করা হয়েছে, তা নিয়ে সেকুলাররা একেবারেই নীরব। বরং অনেকে আবার এই সব হিংসার জন্যও বাবরি কান্ডকেই দায়ী করে। সত্যিই তো ওরা যদি রামজন্মভূমিতে রাম মন্দির পুনঃস্থাপনের চেষ্টা না করত তাহলে তো মুসলমানরা এই সব কাজ করত না।

এখানে অনেকেই বলে, হিন্দুরা ভারতে মুসলমানদের কেন এই করে না, তাই করে না, তারা কেন মেনীমুখোর মত সহ্য করে। আমি বলি ভারতে হিন্দু সংগঠনগুলো যে সংযম দেখায় তার জন্য সকলের তাদেরকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত। কারণ তাদের একটা সামান্য ভুল কাজের জন্য বাংলাদেশ কিংবা পাকিস্তানের হিন্দুদের অবস্থা সংকটজনক হয়ে উঠতে পারে। বাবরি কান্ডই তার প্রমাণ।

অথচ এই ভারতবর্ষে বাতাস আজও কত সোমনাথ, বিশ্বনাথ মন্দির ভাঙ্গার দীর্ঘশ্বাস বয়ে বেড়ায়। সেজন্য কি মুসলিমরা কোন দিন ক্ষমা চেয়েছে?-নিরোদ সি চৌধুরী,(তথাকথিত) আব্রাহামিক মতবাদের অনুসারীদের গোঁড়ামী ও নিগ্রহের সংস্কৃতি সম্বন্ধে বলেন, "মুসলিমদের নূন্যতম অধিকার নেই বাবরী মসজিদ ধ্বংস সম্পর্কে অভিযোগ করার।১০০০ খ্রিষ্টাব্দ হতে কাথিওয়ার থেকে বিহার,হিমালয় থেকে বিন্ধ্যাচল পর্যন্ত প্রতিটি মন্দিরে হামলা চালানো হয়েছে।উত্তর ভারতের একটি মন্দিরও ধ্বংস থেকে বাঁচেনি।যে কয়েকটি বেঁচেছিল সেগুলো এইকারনেই যে প্রতিকূল ভৌগলিক অবস্থানের কারনে মুসলিম বাহিনী সেখানে পৌঁছতে পারেনি।অন্যথা এটা ছিল ধ্বংসের এক বিরামহীন যজ্ঞ।আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন কোন জাতি ই এটা ক্ষমা করবেনা।অযোধ্যার ঘটনা কখনোই ঘটতো না যদিনা মুসলিমরা(রাম মন্দির ভেঙ্গে মসজিদ করার) ঐতিহাসিক সত্যটাকে স্বীকার করত।"

*এক জঙ্গি মুঘল আউরংজেব ধ্বংস করে ৮০ থেকে ষাট হাজার মন্দির।কি!অবিশ্বাস্য মনে হয় তাই http://en.wikipedia.org/wiki/Religious_violence_in_India

*কাশীর বিশ্বনাথ মন্দির সম্পর্কে বলা হচ্ছে যে, ১১৯৪ সালে কুতুবউদ্দিন আইবেক নামক দস্যু প্রথম আক্রমনেই এক হাজার মন্দির ধুলির সাথে মিশিয়ে দিয়েছিল।https://en.wikipedia.org/wiki/Kashi_Vishwanath_Temple#History

*সুলতান মাহমুদ গজনি সোমনাথ মন্দির আক্রমন করে পঞ্চাশ হাজারের উপর নিরপরাধ মানুষকে হত্যা করে।

অথচ বিশ্বের অন্য কোন জাতি হলে এই ধর্ম অবমানার শোধ ঠিকই নিত। কিন্তু ভারত বর্ষ বলে শোধ নেয়া দুরের কথা উল্টো সোমনাথ মন্দির ভেঙে নির্মিত মসজিদ সরকারি টাকায় আবার পাশেই নির্মাণ করে দেয়া হয়... http://bangalihindupost.blogspot.com/search/label/সোমনাথ

*কৃষ্ণজন্ম ভূমি মথুরায় নির্মিত কেশব দেউ মন্দিরের স্থলে নির্মিত মসজিদ ইদ্গাহ সরকারি টাকায় রক্ষনাবেক্ষন করা হয়... http://bangalihindupost.blogspot.com/2013/12/blog-post_2329.html

*ভারতের অন্যতম প্রাচীন মন্দির কাশীর বিশ্বনাথ মন্দিরের স্থলে নির্মিত জ্ঞানবাপী মসজিদ সরকারি টাকায় সংস্কার করা হয় এবং তা রক্ষার জন্য ‘ বিশেষ ধর্মস্থান আইন’ তৈরি করা হয়; আর আদি স্থানের দাবী ছেড়ে পাশে মন্দির পুনঃস্থাপন করা হয়।... http://bangalihindupost.blogspot.com/2013/12/blog-post_18.html

অথচ এক রাম মন্দির পুনঃস্থাপনের চেষ্টার কারণে এসব ঘটনা যেন আজ গুরুত্বহীন হয়ে পড়েছে।

Tuesday, May 14, 2013

সোমনাথ মন্দির , অজানা কথা আর আমাদের নিরবতা


মন্দির মসজিদ ভাঙ্গার কথা আসলেই তথাকথিত মোডারেট মুসলিমরা বাবারি মসজিদের রেফারেন্স দেয়। যদিও ভারতের অযোধ্যায় অবস্থিত বাবরী মসজিদটি পুরবে রাম মন্দির ছিল। হিন্দু বিদ্বেষী মোঘল বাবর তা ধ্বংস করে মন্দিরের কাঠামতেই মসজিদ তৈরি করেছিল। এ কথা সত্য যে মুসলিমদের ধ্বংস করা সব মন্দিরই ছিল সম্পদে ঐশ্বর্যশালী।পরবর্তীতে বাবরী মসজিদের জায়গা হিন্দু- মুসলিম- আর জৈনদের ভাগ করে দেওয়া হয়। এক বার চিন্তা করে দেখুনতো আরবের কোন দেশে এরকম সম্ভব কিনা। শুধু সেকুলার ভারত বলে তা হয়েছে ।অযোধ্যার রাম মন্দিরের মতই আর একটা মন্দির গুজরাটের সোমনাথ মন্দির। যেহেতু এই মন্দির নিয়ে রাজনীতি করা সম্ভব হয়নি তাই এর মর্মস্পর্শী কাহিনী বলা হয় না।সোমনাথ মন্দির ভারতের একটি প্রসিদ্ধ শিব মন্দির। গুজরাট রাজ্যের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত সৌরাষ্ট্র অঞ্চলের বেরাবলের নিকটস্থ প্রভাস ক্ষেত্রে এই মন্দির অবস্থিত। এটি হিন্দু দেবতা শিবের দ্বাদশ জ্যোতির্লিঙ্গের মধ্যে পবিত্রতম। সোমনাথ শব্দটির অর্থ “চন্দ্র দেবতার রক্ষাকর্তা”। সোমনাথ মন্দিরটি ‘চিরন্তন পীঠ’ নামে পরিচিত। কারণ অতীতে ছয় বার ধ্বংসপ্রাপ্ত হলেও মন্দিরটি সত্বর পুনর্নিমিত হয়হিন্দু পুরাণ অনুসারে, দক্ষ প্রজাপতি কর্তৃক অভিশপ্ত হয়ে চন্দ্র প্রভাস তীর্থে শিবের আরাধনা করলে, শিব তাঁর অভিশাপ অংশত নির্মূল করেন। এই কারণে চন্দ্র সোমনাথে শিবের একটি স্বর্ণমন্দির নির্মাণ করেন। পরে রাবণ রৌপ্য ও কৃষ্ণ চন্দনকাষ্ঠ দ্বারা মন্দিরটি পুনর্নিমাণ করেছিলেন বলে বিশ্বাস। গুজরাটের সোলাঙ্কি শাসক ভীমদেব মন্দিরটি নির্মাণ করেন প্রস্তরে। প্রসঙ্গত, সোলাঙ্কি ছিল ভারতের পাঁচ রাজপুত রাজ্যের অন্যতম

বর্তমানে সোমনাথ মন্দির


গুজরাটের বল্লভীর যাদব রাজারা ৬৪৯ খ্রিস্টাব্দে দ্বিতীয় মন্দিরটি নির্মাণ করে দেন। ৭২৫ খ্রিস্টাব্দে সিন্ধের আরব শাসনকর্তা জুনায়েদ তাঁর সৈন্যবাহিনী পাঠিয়ে এই মন্দিরটি ধ্বংস করে দেন। তারপর ৮১৫ খ্রিস্টাব্দে গুজ্জর প্রতিহার রাজা দ্বিতীয় নাগভট্ট সোমনাথের তৃতীয় মন্দিরটি নির্মাণ করান। এই মন্দিরটি ছিল লাল বেলেপাথরে নির্মিত সুবিশাল একটি মন্দির।
সোমনাথ মন্দির

১০২৪ খ্রিস্টাব্দে মামুদ গজনি আরেকবার মন্দিরটি ধ্বংস করেন। ১০২৬ থেকে ১০৪২ খ্রিস্টাব্দের মাঝে কোনো এক সময়ে গুজ্জর পরমার রাজা মালোয়ার ভোজ ও সোলাঙ্কি রাজা আনহিলওয়ারার প্রথম ভীমদেব আবার মন্দিরটি নির্মাণ করান। এই মন্দিরটি ছিল কাঠের তৈরি। কুমারপাল (রাজত্বকাল ১১৪৩-৭২) কাঠের বদলে একটি পাথরের মন্দির তৈরি করে দেন।১২৯৬ খ্রিস্টাব্দে সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির সৈন্যবাহিনী পুনরায় মন্দিরটি ধ্বংস করে। হাসান নিজামির তাজ-উল-মাসির লিখেছেন, গুজরাটের রাজা করণ পরাজিত হন, তাঁর সেনাবাহিনী পলায়ন করে, "পঞ্চাশ হাজার কাফেরকে তরবারির আঘাতে নরকে নিক্ষেপ করা হয়" এবং "বিজয়ীদের হাতে আসে কুড়ি হাজারেরও বেশি ক্রীতদাস ও অগণিত গবাদি পশু"। ১৩০৮ খ্রিস্টাব্দে সৌরাষ্ট্রের চূড়াসম রাজা মহীপাল দেব আবার মন্দিরটি নির্মাণ করান। তাঁর পুত্র খেঙ্গর ১৩২৬ থেকে ১৩৫১ সালের মাঝে কোনো এক সময়ে মন্দিরে শিবলিঙ্গটি প্রতিষ্ঠা করেন।১৩৭৫ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের সুলতান প্রথম মুজফফর শাহ আবার মন্দিরটি ধ্বংস করেন। মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হলে ১৪৫১ খ্রিস্টাব্দে গুজরাটের সুলতান মাহমুদ বেগদা আবার এটি ধ্বংস করে দেন।কিন্তু এবারও মন্দিরটি পুনর্নির্মিত হয়। ১৭০১ খ্রিস্টাব্দে মুঘল সম্রাট আওরঙ্গজেব মন্দিরটি ধ্বংস করেন। আওরঙ্গজেব সোমনাথ মন্দিরের জায়গায় একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। এই মসজিদে হিন্দু শাস্ত্র-ভিত্তিক মোটিফগুলি সম্পূর্ণ ঢাকা পড়েনি।পরে ১৭৮৩ সালে পুণের পেশোয়া, নাগপুরের রাজা ভোঁসলে, কোলহাপুরের ছত্রপতি ভোঁসলে, ইন্দোরের রানি অহল্যাবাই হোলকর ও গোয়ালিয়রের শ্রীমন্ত পাতিলবুয়া সিন্ধের যৌথ প্রচেষ্টায় মন্দিরটি পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। তবে মূল মন্দিরটি মসজিদে পরিণত হওয়ায় সেই জায়গায় মন্দির প্রতিষ্ঠা করা যায় নি। মন্দির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল ধ্বংসাবশেষের পাশে[সম্পাদনা]আসারু-ল-বিলাদ

সোমনাথ মন্দিরের ধ্বংসবাশেশ(১৮৬৯ সাল)

মন্দির থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলা অংশ

গজনির সুলতান মামুদের সমাধির একটি চিত্র। ১৮৩৯-৪০ সালে অঙ্কিত। এই সমাধির চন্দনকাঠের দরজাগুলিকে সোমনাথ মন্দির থেকে লুণ্ঠন করা বলে মনে করা হত। ১০২৪ সালে তিনি সোমনাথ মন্দির ধ্বংস করেছিলেন। 



 নিচের উদ্ধৃতিটি তেরো শতকের আরব ভূগোলবিদ আসারু-ল-বিলাদের লেখা ওয়ান্ডারস অফ থিংস ক্রিয়েটেড, অ্যান্ড মার্ভেলস অফ থিংস এক্সিস্টিং বই থেকে নেওয়া। এতে সোমনাথ মন্দির ও তার ধ্বংসের বিবরণ পাওয়া যায়:“সোমনাথ: ভারতের বিখ্যাত শহর, সমুদ্রের উপকূলে অবস্থিত এবং সমুদ্রের তরঙ্গবিধৌত। এই স্থানের বিস্ময়কর স্থানগুলির মধ্যে একটি হল এক মন্দির যেখানে সোমনাথ নামে একটি বিগ্রহ রয়েছে। বিগ্রহটি মন্দিরের মাঝখানে নিচের কোনোরকম ঠেকনা ছাড়াই উপর থেকে ঝুলে রয়েছে। হিন্দুরা এটিকে খুব শ্রদ্ধা করে। বিগ্রহটিকে ওভাবে ঝুলতে দেখে মুসলমানই হোক, আর কাফেরই হোক, সবাই আশ্চর্য হয়ে যায়। চন্দ্রগ্রহণের দিন হিন্দুরা এই মন্দিরে তীর্থ করতে আসে। সেই সময় লক্ষ লক্ষ লোক এই মন্দিরে ভিড় জমান।"“সুলতান ইয়ামিনু-দ দৌলা মাহমুদ বিন সুবুক্তিগিন ভারতের বিরুদ্ধে ধর্মযুদ্ধ ঘোষণা করলেন। তিনি ভেবেছিলেন সোমনাথ ধ্বংস করে দিলেই হিন্দুদের মুসলমান করা যাবে। তাই তিনি সোমনাথ ধ্বংস করার ব্যাপারে বিশেষভাবে যত্নবান হন। এর ফলে হাজার হাজার হিন্দুকে জোর করে মুসলমান করা হয়। তিনি ৪১৬ হিজরির জিল্কাদা মাসের মাঝামাঝি সময় (১০২৫ খ্রিস্টাব্দের ডিসেম্বর মাসে) এসেছিলেন। "বিহগ্রের দিকে সুলতান আশ্চর্য হয়ে চেয়ে রইলেন। তারপর লুটের মাল নিয়ে যাওয়ার হুকুম দিলেন। ধনসম্পদ তাঁর খুব পছন্দ হয়েছিল। সেখানে সোনা ও রুপো দিয়ে তৈরি অনেক মূর্তি ছিল। রত্নখচিত অনেক পাত্র ছিল।ভারতের বিশিষ্ট ব্যক্তিরা সেসব বিভিন্ন সময়ে ডান করেছিলেন।



স্বাধীনতার আগে, প্রভাস পত্তন ছিল দেশীয় রাজ্য জুনাগড়ের অংশ। জুনাগড়ের ভারতভুক্তির পর ১৯৪৭ সালের ১২ নভেম্বর ভারতীয় প্রজাতন্ত্রের তৎকালীন উপ-প্রধানমন্ত্রী সর্দার বল্লভভাই প্যাটেল জুনাগড়-পুনর্গঠনের জন্য ভারতীয় সেনাবাহিনীকে উপযুক্ত নির্দেশ দিতে আসেন। সেই সময়ই তিনি সোমনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণের আদেশ দেন।সর্দার প্যাটেল, কে এম মুন্সি ও কংগ্রেসের অন্যান্য নেতারা সোমনাথ মন্দির পুনর্নির্মাণের প্রস্তাব নিয়ে মহাত্মা গান্ধীর কাছে গেলে, গান্ধীজি তাঁদের আশীর্বাদ করেন। তবে তিনি বলেন, মন্দির নির্মাণের খরচ যেন সরকার বহন না করে। তিনি জনগণের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহের পরামর্শ দেন। পুনর্নির্মাণের কাজে যুক্ত হতে পেরে তিনি নিজে গর্বিত, এমন কথাও বলেন। কিন্তু তারপরই গান্ধীজি ও সর্দার প্যাটেলের মৃত্যু হলে, নেহেরু সরকারের খাদ্য ও সরবরাহ মন্ত্রী কে এম মুন্সি একাই মন্দির পুনর্নির্মাণের কাজটি এগিয়ে নিয়ে চলে১৯৫০ সালের অক্টোবর মাসে ধ্বংসাবশেষ সাফ করে ফেলা হয়। আওরঙ্গজেব নির্মিত মসজিদটি কয়েক মাইল দূরে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। ১৯৫১ সালের মে মাসে কে এম মুন্সির আমন্ত্রণে ভারতের প্রথম রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ মন্দিরের শিলান্যাস করেন। রাজেন্দ্র প্রসাদ তাঁর ভাষণে বলেন, "যেদিন শুধুমাত্র এই ভিত্তির উপর এক অসামান্য মন্দিরই নির্মিত হবে না, বরং প্রাচীন সোমনাথ মন্দির ভারতের যে ঐশ্বর্যের প্রতীক ছিল, সেই ঐশ্বর্য ভারত ফিরে পাবে, সেইদিনই আমার দৃষ্টিতে সোমনাথ মন্দির পুননির্মিত হবে।" তিনি আরও বলেন, "ধ্বংসের শক্তির চেয়ে যে সৃষ্টির শক্তি মহৎ তার প্রতীক সোমনাথ মন্দির।"এই সময় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরুর সঙ্গে রাষ্ট্রপতি রাজেন্দ্র প্রসাদ ও কে এম মুন্সির মধ্যে এক মতান্তর দেখা দেয়। নেহেরু এই মন্দির পুনর্নির্মাণকে হিন্দু পুনর্জাগরণ আন্দোলন হিসেবে দেখতে চেয়েছিলেন। কিন্তু রাজেন্দ্র প্রসাদ ও কে এম মুন্সি মনে করেছিলেন, এই মন্দির পুনর্নির্মাণ স্বাধীনতার ফলস্রুতি এবং অতীতে হিন্দুদের বিরুদ্ধে হওয়া অবিচারের প্রতিকার।সোমনাথ মন্দির বর্তমানে শ্রীসোমনাথ ট্রাস্ট দ্বারা পরিচালিত হয়।
মন্দিরের সাম্প্রতিক রূপ

 শুধু ভারত বলেই যারা মন্দিরের ধ্বংস করেছিল তাদের জন্যে আবার মসজিদ তৈরি করে দেউয়া হয়েছিল। চিন্তা করে দেখুন হিন্দুদের যে নির্যাতন করা হয়েছিল সেরূপ নির্যাতন যদি অন্য কোন মুসলিম প্রধান দেশে মুসলিমদের করা হত আর পরবর্তীতে মুসলিমরা ক্ষমতা ফিরে পেলে তাঁরা কি করত।

Labels

বাংলা (170) বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন (22) ethnic-cleansing (17) ভারতীয় মুসলিমদের সন্ত্রাস (17) islamic bangladesh (13) ভারতে হিন্দু নির্যাতন (12) : bangladesh (11) হিন্দু নির্যাতন (11) সংখ্যালঘু নির্যাতন (9) সংখ্যালঘু (7) আরব ইসলামিক সাম্রাজ্যবাদ (6) minority (5) নোয়াখালী দাঙ্গা (5) হিন্দু (5) hindu (4) minor (4) নরেন্দ্র মোদী (4) বাংলাদেশ (4) বাংলাদেশী মুসলিম সন্ত্রাস (4) ভুলে যাওয়া ইতিহাস (4) love jihad (3) গুজরাট (3) বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন (3) বিজেপি (3) ভারতে অনুপ্রবেশ (3) মুসলিম বর্বরতা (3) হিন্দু নিধন (3) George Harrison (2) Julia Roberts (2) List of converts to Hinduism (2) bangladesh (2) কলকাতা (2) গুজরাট দাঙ্গা (2) বাবরী মসজিদ (2) মন্দির ধ্বংস (2) মুসলিম ছেলেদের ভালবাসার ফাঁদ (2) লাভ জিহাদ (2) শ্ত্রু সম্পত্তি আইন (2) সোমনাথ মন্দির (2) হিন্দু এক হও (2) হিন্দু মন্দির ধ্বংস (2) হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা (2) Bhola Massacre (1) English (1) april fool. মুসলিম মিথ্যাচার (1) converted hindu celebrity (1) converting into hindu (1) dharma (1) facebook (1) gonesh puja (1) gujrat (1) gujrat riot (1) jammu and kashmir (1) om (1) religion (1) roth yatra (1) salman khan (1) shib linga (1) shib lingam (1) swami vivekanada (1) swamiji (1) অউম (1) অক্ষরধাম মন্দিরে জঙ্গি হামলা ২০০২ (1) অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী (1) অর্পিত সম্পত্তি আইন (1) আওরঙ্গজেব (1) আদি শঙ্কর বা শঙ্করাচার্য (1) আর্য আক্রমণ তত্ত্ব (1) আসাম (1) ইতিহাস (1) ইয়াকুব মেমন (1) উত্তরপ্রদেশ (1) এপ্রিল ফুল (1) ওঁ (1) ওঁ কার (1) ওঁম (1) ওম (1) কবি ও সন্ন্যাসী (1) কাদের মোল্লা (1) কারিনা (1) কালীঘাট মন্দির (1) কাশী বিশ্বনাথ মন্দির (1) কৃষ্ণ জন্মস্থান (1) কেন একজন মুসলিম কোন অমুসলিমের বন্ধু হতে পারে না? (1) কেন মুসলিমরা জঙ্গি হচ্ছে (1) কেশব দেও মন্দির (1) খ্রিস্টান সন্ত্রাসবাদ (1) গনেশ পূজা (1) গুজরাটের জঙ্গি হামলা (1) জাতিগত নির্মূলীকরণ (1) জামাআ’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (1) জেএমবি (1) দেশের শত্রু (1) ধর্ম (1) ধর্মযুদ্ধ (1) নবদুর্গা (1) নববর্ষ (1) নালন্দা (1) নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় (1) নোয়াখালি (1) পঞ্চ দেবতার পূজা (1) পহেলা বৈশাখ (1) পহেলা বৈশাখ কি ১৪ এপ্রিল (1) পাকিস্তানী হিন্দু (1) পূজা (1) পূজা ও যজ্ঞ (1) পূজার পদধিত (1) পৌত্তলিকতা (1) ফেসবুক (1) বখতিয়ার খলজি (1) বরিশাল দাঙ্গা (1) বর্ণপ্রথা (1) বর্ণভেদ (1) বলিউড (1) বাঁশখালী (1) বিহার (1) বুদ্ধ কি নতুন ধর্ম প্রচার করেছেন (1) বৈদিক ধরম (1) বৌদ্ধ দর্শন (1) বৌদ্ধ ধর্ম (1) ভারত (1) মথুরা (1) মরিচঝাঁপি (1) মানব ধর্ম (1) মিনি পাকিস্তান (1) মীরাট (1) মুক্তমনা (1) মুক্তিযুদ্ধ (1) মুজাফফরনগর দাঙ্গা (1) মুম্বাই ১৯৯৩ (1) মুলতান সূর্য মন্দির (1) মুলায়ম সিং যাদব (1) মুসলিম তোষণ (1) মুসলিম ধর্ষক (1) মুসলিমদের পুড়ে মারার ভ্রান্ত গল্প (1) মুহাম্মদ বিন কাশিম (1) মূর্তি পুজা (1) যক্ষপ্রশ্ন (1) যাদব দাস (1) রথ যাত্রা (1) রথ যাত্রার ইতিহাস (1) রবি ঠাকুর ও স্বামীজী (1) রবি ঠাকুরের মা (1) রবীন্দ্রনাথ ও স্বামীজী (1) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1) রিলিজিওন (1) রুমি নাথ (1) শক্তিপীঠ (1) শঙ্করাচার্য (1) শিব লিংগ (1) শিব লিঙ্গ (1) শিব লিঙ্গ নিয়ে অপপ্রচার (1) শ্রীকৃষ্ণ (1) সনাতন ধর্ম (1) সনাতনে আগমন (1) সাইফুরস কোচিং (1) সালমান খান (1) সোমনাথ (1) স্বামী বিবেকানন্দ (1) স্বামীজী (1) হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্ম (1) হিন্দু জঙ্গি (1) হিন্দু ধর্ম (1) হিন্দু ধর্ম গ্রহন (1) হিন্দু বিরোধী মিডিয়া (1) হিন্দু মন্দির (1) হিন্দু শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাই (1) হিন্দুধর্মে পৌত্তলিকতা (1) হিন্দুরা কি পৌত্তলিক? (1) ১লা বৈশাখ (1) ১৯৭১ (1)

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Blogger Tips and TricksLatest Tips And TricksBlogger Tricks

সর্বোচ্চ মন্তব্যকারী