শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুন

শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুন
অর্জুন তোমার আমার বহুবার জন্ম হয়েছে। সে কথা তোমার মনে নেই, সবই আমার মনে আছে।

Thursday, July 5, 2012

কালী সময় ও শক্তির দেবী-রাজেন্দ্র


হিন্দু ধর্মে যে সকল দেব দেবী আমাদের পরিচিত তাদের মাঝে "দেবী কালী" অন্যতম।সংস্কৃতে "কালিকা" এবং বাংলায় "কালী" নামে পরিচিতা দেবীর মুর্তি কালো। "কালী" নামের অর্থ কালো। আবার কালো শব্দ টা এসেছে কাল বা সময় থেকে। তাই দেবী কালী কাল বা সময়ের দেবী- পরিবর্তনের দেবী। 








পুরাতন সংস্কৃত গ্রন্থ শব্দকল্পদ্রুম মতে "কালী" নামটা এসেছে এই ভাবে-
कालः शिवः । तस्य पत्नीति - काली: কালী
এখানে আরো বলা হয়েছে ভগবান শিবের আরেকনাম কালা-আর তাঁর স্ত্রির নাম কালী।
আরেকটি নাম আছে "কালরত্রি" {কালো রাত}যার থেকে বিবর্তনের ফলে এসেছে "কালিকা" বা "কালী"।

"দেবী কালী"র নাম পাওয়া যায় বহু ধর্মগ্রন্থে- যার মাঝে "অর্থব বেদ" অন্যতম।
 
তবে প্রথম "কালী" নামটি উচ্চারিত হয় অর্থব বেদের "কথাগ্রহসুত্রে" ।এর পর "মুন্ডকউপনিষদে" কালী নামটা উচ্চারিত হয়েছে বারবার।
এরপর মহাভারতে ভিষ্মপর্বে দেবী কালীর পুজার কথা পাওয়া যায় পান্ডবদের বিজয় লাভের আকাংখায়।





মা কালীর অনেক রকম পুজার মাঝে তন্ত্রবিদ্যায় বা তন্ত্র বিদ্যার শাখাপ্রশাখায় কালীর পুজা করা বাধ্যতা মুলক-কারণ মা কালীর পুজা করার মাধ্যমেই তান্ত্রিকরা মন্ত্রশক্তির অধিকারী হতে পারেন বলে বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে কথিত আছে।




পুরাণ মতে দেবী কালী হলেন মা মহামায়ার কালীকা শক্তি।দেবী মহামায়া অসুর দের অত্যাচারে অতিষ্ট দেব ও মানবকুলের কান্না আর আহাজারি সহ্য করতে না পেরে ক্রোধে ফেটে পড়েন। অত্যন্ত ক্রোধে র ফলে তাঁর শরীর থেকে জ্যোতি বের হতে থাকে এবং তিনি কালো রুপ ধারণ করেন।
এবং অসুর নিধনে খড়গ হাতে নেমে পড়েন মহা যুদ্দ্বে।যত তিনি হত্যা করতে থাকেন ততই তাঁর ক্রোধ বাড়তে থাকে।তখন তিনি মহাকালী রুপে খড়গ দিয়ে অসুরের মাথা কাটতে কাটতে নিজের শরীরে পরিধান করতে থাকেন।এভাবে অসুর নিধন করতে করতে মা পাগলীনি প্রায় হয়ে উঠলে
দেবতারা চিন্তিত হয়ে মহাদেবের কাছে আসেন কালী দেবীকে থামানোর উপায় খুঁজতে।
দেবতা শিব বহু ছলনা করেও দেবীকে থামাতে না পেরে পথের ধারে উঁচু গাছের রুপ নিয়ে পড়ে থাকেন।আর যেই দেবী সেই গাছের উপর পা রাখেন সাথে সাথে দেবাদিদেব মহাদেব নিজ রুপে আর্ভিভুত হন।আর দেবী নিজের স্বামীকে পায়ের নিচে দেখে জিহবায় কামড় দেন।এবং থেমে যায় তাঁর যুদ্ধ।তারপর থেকে দেবী কালীকে রুদ্রমুর্তিতে দেবতা শিবের বুকের উপর পা দেয়া অবস্থায় পুজা করা হয়ে আসছে।

আসলে দেবী কালী র যে মুর্তিতে পুজা করা হয় সেটা অনেকটা রুপক অর্থে।দেবীর গায়ের রং কালো-কালি বা কালো হল শক্তির রং-সময়ের রং-দেবী শক্তির আঁধার বুঝাতেই দেবী কালো-দেবী কোন বস্ত্র পরিধান করেন না কারণ শক্তিকে কোন কিছু দিয়ে ঢেকে রাখা যায়না-দেবী র চারটি হাত চারটি যুগ বা চারটি বিভাগ { ধর্ম-অর্থ-কাম-মোক্ষ} কে নির্দেশ করে।
 
দেবীর এক হাতে খড়গ-যার মানে তিনি খড়গ বা খন্ডন করতে পারেন- এক হাতে কাটা মুন্ড যার মানে তিনি আমাদের খারাপ কাজের যে কোন রকম শাস্তি দিতে পারেন-উনার উপরের ডান হাত আর্শিবাদ ভংগীতে আছে অর্থাত মা তাঁর সন্তান দের অভয় দিচ্ছেন-আর নিচের হাতে কমন্ডুল যার মানে মা ধারন করছেন সকল প্রকার মায়া।
মায়ের তিনটি চোখ- তৃতীয় নয়ন দিয়ে মা আগুন ছিটিয়ে ধ্বংস করেন খারাপ কে-অশুভ কে।
মায়ের জি্হবা লাল আর তা বের করা। অনেকেই মনে করেন মা অসুর বা খারাপের রক্ত পান করেন-কিন্তু না তা সত্য নয়-মায়ের দাঁত সাদা-মা রক্ত পান করলে তার ও লাল থাকতো-এখানে লাল জিহবা তমোগুনের প্রতীক-আর সাদা দাঁত স্বত্ত গুনের প্রতীক-মানে মা স্বত্ত্ব গুন দিয়ে তমোগুন কে চেপে রেখেছেন- আমাদের বলেছেন যেন আমরা ভাল গুন দিয়ে খারাপ কে জয় করতে পারি।
মায়ের এক পা দেবতা শিবের উপর রাখা কারণ মা দেবতা শিবের হ্লাদিনি শক্তি বা হাস্যময়ী শক্তি- কালী ছাড়া কালা{শিবের} অচল-এটা ই বুঝাতে চেয়েছেন।






দেবী কালী কালে কালে বহুরুপে পুজিত হয়ে আসছেন-যাদের মাঝে আছে 
-দক্ষিনা কালী
-ভদ্রা কালী
-কপালীনি
-ভৈরবী
-মাতন্গী
-মহাকালী প্রভৃতি।

যুগেযুগে বহু মনীষী মা কালীর আরাধনা করে সিদ্ধ হয়েছেন যাদের মাঝে শ্রী রামকৃষ্ণ-বামাক্ষেপা-অতুলপ্রসাদ-রামপ্রসাদ অন্যতম- এখনো রামপ্রসাদি আর বামাক্ষেপার রচিত গান শুনতে শুনতে মায়ের অমোঘ টানে হারিয়ে যার মন। 



Wednesday, July 4, 2012

হিন্দু শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের চেষ্টা

বগুড়া ও জয়পুরহাট জেলায় ভুুয়া শিক্ষার্থীর তালিকা তৈরি করে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের দেওয়া হিন্দু শিক্ষার্থীদের উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের চেষ্টার ঘটনা ফাঁস হয়েছে। 
এই দুই জেলার বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কয়েক হাজার ভুয়া হিন্দু শিক্ষার্থীর তালিকা এবং বরাদ্দ আদেশ জমা দিয়ে কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানেরা জেলা ও উপজেলা হিসাবরক্ষণ কার্যালয় থেকে উপবৃত্তির টাকা তুলে নেওয়ার পর শিক্ষার্থীদের সন্দেহ হলে জালিয়াতির বিষয়টি জানাজানি হয়। 
পরে দুই জেলার প্রশাসকেরা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করে জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর এ বিল ছাড় না করার জন্য হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন। পাশাপাশি যেসব প্রতিষ্ঠান ভুয়া তালিকা দেখিয়ে বিল তুলে নিয়েছিল, সেই সব প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের কাছ থেকে ছাড় করা অর্থ ফেরত নেন হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তারা।
মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তর গত ২৭ জুন কলেজ পর্যায়ে অধ্যয়নরত হিন্দু শিক্ষার্থীদের গত অর্থবছরের হিন্দু তফসিলি উপবৃত্তি মঞ্জুর করে। একই সঙ্গে উপবৃত্তির জন্য মনোনীতদের তালিকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে দেওয়া হয়।
কিন্তু বগুড়া ও জয়পুরহাটে এই তালিকার বাইরে ভুয়া তালিকা দেখিয়ে উপবৃত্তির টাকা আত্মসাতের চেষ্টা চালায় একটি চক্র। চক্রটি অধিদপ্তরের শীর্ষ কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর জাল করে টাকা আত্মসাতের চেষ্টা চালায়। অধিদপ্তরের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এই চক্রের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, সারা দেশে এবার মোট এক হাজার ১৫০ জনকে এই উপবৃত্তি দেওয়া হয়। উচ্চ মাধ্যমিক থেকে স্নাতকোত্তর পর্যন্ত অধ্যয়নরতদের এই উপবৃত্তি দেওয়া হয়।
বগুড়া ও জয়পুরহাটের এই ভুয়া তালিকা ও বরাদ্দপত্র গত মঙ্গলবার প্রথম আলোর পক্ষ থেকে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক নোমান উর রশীদ, পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) আতাউর রহমান এবং উপপরিচালক জাহাঙ্গীর হোসেনকে দেখালে তাঁরা জানান, এগুলো ভুয়া।
আতাউর রহমান প্রথম আলোকে জানান, উপবৃত্তির জন্য নির্বাচিতদের তালিকা মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে (www.dshe.gov.bd) দেওয়া আছে। এর বাইরে যে তালিকা, সেগুলো ভুয়া। বিষয়টি জানার পর তাঁরাও সেটি তদন্ত করছেন।
জাহাঙ্গীর হোসেন প্রথম আলোকে জানান, জালিয়াতি ঠেকাতে মাউশির ওয়েবসাইটে এ ব্যাপারে সতর্কতা নোটিশ জারি করা হয়েছে।
বগুড়া জেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা মো. আমির হোসেন বলেন, উপবৃত্তি দেওয়ার জন্য নিজ নিজ হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তার কার্যালয়ে শিক্ষার্থীদের তালিকাসহ কুরিয়ারযোগে একাধিক বরাদ্দপত্র আদেশ আসে। ওই বরাদ্দ আদেশের ভিত্তিতে বেশ কিছু শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বিলও ছাড় করা হয়। কিন্তু শিক্ষার্থীদের সংখ্যা এবং বরাদ্দ আদেশে একই হাতে একাধিক স্বাক্ষরের বিষয়টি সন্দেহ হলে তা জেলা প্রশাসক ও সংশ্লিষ্ট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নজরে আনা হয়। তাঁরা মাউশিতে খোঁজ নিয়ে নিশ্চিত হন, এ ধরনের কোনো বরাদ্দ ছাড়া হয়নি। পরে হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তারা এসব ভুয়া বিল আটকে দেন। বিষয়টি জানাজানির আগেই যেসব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বরাদ্দ তুলে নিয়েছিল, সেই সব প্রতিষ্ঠানকে দ্রুত বিল জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। কিছু বিল ছাড় দেওয়া হলেও অর্থ প্রদান না করার জন্য ব্যাংকগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়। 
বগুড়া সদরের সরকারি আজিজুল হক কলেজ, সরকারি মুজিবুর রহমান মহিলা কলেজ, সরকারি শাহ সুলতান কলেজ, নামুজা ডিগ্রি কলেজ, নুনগোলা ডিগ্রি কলেজ, বগুড়া আদর্শ ডিগ্রি কলেজ, পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের নামে এসব ভুয়া বরাদ্দপত্র এসেছে।
বগুড়ার জেলা প্রশাসক সারোয়ার মাহমুদ বলেন, জালিয়াতির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর ওই বিল ছাড় না করার জন্য হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তড়িঘড়ি বিল নেওয়ার চেষ্টা জয়পুরহাটে: জয়পুরহাটের কালাই ও পাঁচবিবি (অতিরিক্ত) উপজেলা হিসাবরক্ষণ কর্মকর্তা জাহাঙ্গীর হাসান বলেন, ভুয়া আদেশ আসার সঙ্গে সঙ্গে প্রতিষ্ঠানপ্রধানেরা তড়িঘড়ি করে বিল তুলে নেওয়ার জন্য যোগাযোগ করেন। কালাই উপজেলার মাত্রাই মডেল কলেজ এবং পাঁচবিবির উচাই কলেজের অধ্যক্ষ প্রায় দেড় লাখ টাকার বিলও তুলে নেন। কালাই মহিলা ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ ১৮৩ জন ভুয়া ছাত্রীর নামে তড়িঘড়ি করে প্রায় চার লাখ টাকার বিল তুলে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে জালিয়াতির বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর কালাই মহিলা ডিগ্রি কলেজের বিল আটকে দেওয়া হয়েছে এবং মাত্রাই মডেল কলেজ ও উচাই কলেজের অধ্যক্ষের কাছ থেকে ছাড় করা বিলের অর্থ ফেরত নেওয়া হয়েছে।

ঘটী-বাঙ্গালের তরজা


Hinduism in Indian Nationalism & role of Islam





দুই বন্ধু
, সূর্য ও বিদ্যুৎ একদিন আড্ডা মারতে মারতে হটাৎই ঘটী-বাঙ্গালের দ্বৈরথে জড়িয়ে পড়ল, এটা তারই এক মজার উপাখ্যান। ঘটনাক্রমে সূর্যের পরিবার পশ্চিমবঙ্গীয় আর বিদ্যুতের পরিবারের আদি নিবাস ছিল পূর্ববঙ্গে যদিও এই প্রজন্মের দুই বন্ধুরই জন্ম ও কর্মস্থান ভারতের এই পশ্চিমবাংলা রাজ্য।
সূর্যঃ কাল তাহলে আমাদের মোহনবাগান তোদের ইস্টবেঙ্গলকে ২-০ তে হারাল?
বিদ্যুতঃ কাটা ঘায়ে নুনের ছিটে দিচ্ছিস, বল বল এক মাঘে শীত যায় না। আই লীগ চ্যাম্পিয়নশিপে কিন্তু আমরাই এগিয়ে।
সূর্যঃ ধন্যি তোরা, ইস্টবেঙ্গল বলে আজ দুনিয়ায় কোন জায়গাই নেই অথচ তোরা এখনও সে নামে ক্লাব চালাস।
বিদ্যুতঃ আজ নেই তো কি হয়েছে, বিংশ শতাব্দীর প্রথমদিকে যখন দলটির প্রতিষ্ঠা হয়েছিল তখন তো পূর্ববঙ্গ ভারতেই ছিল।
সূর্যঃ আমাদের মোহনবাগান কিন্তু আরও অনেক পুরনো তাহলে তোদের আলাদা ক্লাবের প্রয়োজন হল কেন, তখন তো দেশভাগ হয়নি?
বিদ্যুতঃ সেই ১৯১১এর পুরনো কাসুন্দির দিকে ইঙ্গিত করছিস?
সূর্যঃ আমাদের দলের সে বছর সাহেবদের ইষ্ট ইয়র্ক দলকে হারিয়ে আই এফ এ শীল্ড জেতা ও একই সাথে বঙ্গভঙ্গ রোধ হওয়া স্বাধীনতা আন্দোলনে যে এক নতুন জোয়ার এনেছিল সেকথা অস্বীকার করতে পারিস?
বিদ্যুতঃ না তা বলছি না, তাই তো অনেক বয়স্ক পূর্ববঙ্গীয় এখনো মোহনবাগানকেই নিজেদের ক্লাব ভাবেন। যেমন বিধান রায় বা জ্যোতি বসু দুজনেই প্রকাশ্যে মোহনবাগানী ছিলেন। তবে ১৯০৫ থেকে ১৯১১ অব্ধি যে ইস্টবেঙ্গল রাজ্য ছিল তা আর না থাকলেও ১৯২১ থেকে গোটা বাংলাই মুসলমান প্রধান হয়ে যায় বিশেষত পুব-বাংলা, তাই বাঙ্গালী হিন্দুর স্বাতন্ত্র্য রক্ষা করতেই এই ক্লাবের আবির্ভাব কারণ ততদিনে কলকাতা ময়দানে বাংলার তথা অখণ্ড ভারতের মুসলমানদের নিজস্ব মহামেডান ক্লাবও এসে গেছে। আর আমাদের আদিবাড়ি কিন্তু মহারাজা প্রতাপাদিত্যের যশোরে যা প্রথম বঙ্গভঙ্গের সময় খুলনার সাথে পশ্চিমবঙ্গেই ছিল এবং তখন শুধু পদ্মাপারের লোকদেরই ভাষাগত কারণে বাঙ্গাল বলা হতো, আমাদের মতো নদীয়ার স্ট্যান্ডার্ড ভাষা বলা দক্ষিনবঙ্গীয়দের না। তবে এখন তো আমাদের সাথে সাথে অসমের শ্রীহট্ট থেকে আসা সিলেটীদেরও বাঙ্গাল বলা হয় যেহেতু সে সব স্থানই এখন বিদেশী ইসলামিক বাংলাদেশের হাতে পড়েছে!
সূর্যঃ বুঝলাম তবে আমাদের পাশের বাড়ির সৈকত আবার মামার বাড়ির প্রভাবে পড়ে ইস্টবেঙ্গল সাপোর্টর হয়ে গেছে যদিও ওর বাবা একেবারে খাঁটি মেদিনীপুরের।
বিদ্যুতঃ এতবছর পরেও তাহলে আমরা সম্পূর্ণ এক হতে পারি নি আর তুই আমাদের ক্লাব তুলে দেওয়ার কথা বলছিস!
সূর্যঃ অথচ পাঞ্জাবে দেখ, সেখানেও একসময় পূর্বপাঞ্জাব ও পশ্চিম পাঞ্জাবের মধ্যে সাংস্কৃতিক ও ভাষাগত বৈচিত্র্য আমাদের থেকে অনেক বেশী ছিল কিন্তু আজ সব ভারতীয় পাঞ্জাবিরা সমস্ত এক হয়ে গেছে।
বিদ্যুতঃ এখানে সেটা না হওয়ার জন্য প্রধানত কিন্তু তোরা ঘটীরাই দায়ী।
সূর্যঃ কেন একথা বলছিস তোরা বাঙ্গালরাও তো কিছু কম হিংসা করিস না আমাদের।
বিদ্যুতঃ আরে সেসব অসম প্রতিযোগিতাই হত না যদি পাঞ্জাবের মত উদ্বাস্তু সমস্যার সুষ্ট সমাধান হত এখানে।
সূর্যঃ কেন তোরা তো আমাদের অনেক পুরনো জমিদারদের জমি ও সরকারী খাস জমি দখল করে রিফিউজি কলোনী বানিয়েছিস।
বিদ্যুতঃ হ্যাঁ তবে দরিদ্র ছিন্নমূল পরিবারগুলো বেশিরভাগই পাঞ্জাবের হিন্দু-শিখদের মতো সরকারী সাহায্য পায়নি আর তোরাও পাঞ্জাবীদের মতো দেশ বিভাজনের সময় মুসলমানদের ওপারে না পাঠানোয়, জন-বিনিময় বা সম্পত্তি বিনিময় কোনটাই ঠিকঠাক করা যায়নি।
সূর্যঃ আমদের পূর্বপুরুষেরা সেটা করলে অবশ্য পশ্চিমবাংলায় যে শুধু জমির উপর জনসংখ্যার চাপ বা বস্তি সংখ্যাই কম হতো বা আমরাও পাঞ্জাবের মতো উন্নত হতে পারতাম তা নয়, আজকের মতো এরাজ্য জিহাদীদের স্বর্গরাজ্যও হয়ে উঠত না। কত হিন্দুর লাশের বিনিময়ে, কত বাঙ্গালী নারীর ইজ্জতের বিনিময়ে যে দাঙ্গার মাধ্যমে দেশভাগ ও স্বাধীনতা এসেছিল এবং শুধুমাত্র হিন্দুধর্ম টিকিয়ে রাখতে তোরা ওপার থেকে চলে আস্তে বাধ্য হয়েছিলি তার জন্য এতটুকু নিশ্চয় করা উচিত ছিল। না হলে তো তোরা ধর্ম পরিবর্তন করে রাজকীয়ভাবে ওখানে থেকে যেতে পারতিস। কিন্তু শুধুমাত্র ‘স্বধর্মে নিধনং শ্রেয়, পরধর্ম ভয়াবহ’ এই গীতার বাণী সম্বল করে অনিশ্চিতের পথে পা বাড়িয়েছিলি আর আজ এই খণ্ড পশ্চিমবাংলাতেও আমরা এক না হলে বাংলাদেশ থেকে আসা স্রোতের মতো বিদেশী মুসলমান দখলদার আমাদের নিজ দেশে আবার পরবাসী করে ছাড়বে। তারা শুধু জনবিন্যাসই বদলায় নি,এখানের গরীবদের কাজ ছিনিয়ে নিয়েছে মুর্শিদাবাদী লেবার-মিস্ত্রী ও বাড়ির কাজের লোকের ছদ্মবেশে, মুদ্রাস্ফীতি, মূল্যবৃদ্ধি,খাদ্যাভাব, অপরাধ বৃদ্ধি এবং সর্বোপরি ভোট ব্যাঙ্কের মাধ্যমে রাজ্যের অধিকাংশ এম পি ও এম এল এ গঠনের চাবিকাঠি পকেটস্থ করে ফেলেছে।
বিদ্যুতঃ শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় সমস্ত বাঙ্গালী হিন্দুর জন্যই পাকিস্তান ভেঙ্গে পশ্চিমবাংলার ভিত্তি স্থাপন করেছিলেন না হলে মুসলমান সংখ্যাগুরু হওয়ার ফলে পুরো বাংলাই পূর্ব পাকিস্তানে (ইসলামিক বাংলাদেশে) চলে যেত।
সূর্যঃ তবে যে তোদের অনেক শিক্ষিত কলকাতাবাসী বুদ্ধিজীবী দেশভাগের জন্য হিন্দুদেরই দায়ী করে আর এখানে মুসলমান সংখ্যালঘু তোষণ ও সংরক্ষণের কথা বলে।
বিদ্যুতঃ ওই আরবের পেট্রোডলার পুষ্ট দুর্বুদ্ধিজীবীরা বলা ও লেখা তো দূরের কথা দাঁড়ানোর স্থানই পেত না যদি না অবিভক্ত মুসলমান প্রধান বেঙ্গল এসেম্বলীর প্রস্তাবের বিরোধিতা করে দুই বঙ্গের তৎকালীন হিন্দু এম এল এরা হিন্দু প্রধান পশ্চিমবাংলা সব বাঙ্গালী হিন্দুর জন্য ধর্মনিরপেক্ষ ভারতে অন্তর্ভুক্তির প্রস্তাব সংখ্যাগরিষ্ঠতায় পাশ করাতো।
সূর্যঃ এদিকে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল মুসলমান ভোটের লোভে প্রায় দুই কোটি অবৈধ মুসলমান বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীকে বিতাড়ন না করে রেশন কার্ড জোগাড় করে দিয়ে আবার এই হিন্দু বাংলাকে বিপদের মুখে ফেলে দিয়েছে। না হলে বল এবাংলায় ১৯৬১ তে ৯% থেকে ২০১১ তে ৩৫% বা ৫০ বছরে মুসলমানের এই চারগুণ বৃদ্ধি কি স্বাভাবিক, যেখানে কোটি কোটি হিন্দু বাঙ্গালী উদ্বাস্তু পরিবার তোদের মতো এপারে চলে এসেছে? উলটে তো হিন্দুর সংখ্যাই বাড়া উচিত ছিল কারণ বাংলাদেশে দেশ বিভাজনের সময়ের ৩০% থেকে কমে হিন্দু এখন সেখানে মাত্র ৮% এবং তাদের যদি অবিলম্বে এপারে পুনর্বাসন না দেওয়া হয় যেমন স্বাধীনতার সময়ের দেশনেতারা সংসদে কথা দিয়েছিলেন তাহলে তো তাদেরও ধ্বংস সুনিশ্চিত। তাই এখনই প্রয়োজন তাদের সঙ্গে এখানের অবৈধ মুসলমান বাংলাদেশী অনুপ্রবেশকারীদের ১০০% জন-বিনিময়।
বিদ্যুতঃ হ্যাঁ, একদম ঠিক কথা আর তাই আমরা বাঙ্গালী হিন্দু যদি আজও এক না হই তাহলে নিকট ভবিষ্যতে ওই ৩৫% মুসলমান, ভিন্ন আইন ও জন্মনিয়ন্ত্রণ না মানার ফলে খুব শীঘ্র আবার এরাজ্যেও সংখ্যাগুরু হয়ে কাশ্মীরের পাঁচ লক্ষ হিন্দুদের মতো আমাদের তাড়িয়ে দিতে পারে।
সূর্যঃ আর এবারে কিন্তু ভাই আমাদের আর পালানোরও কোন জায়গা নেই।
বিদ্যুতঃ যা বলেছিস, ভারতে জাতীয় জীবনের মূল ধারা মানে হিন্দুত্ব তাই যেখানে হিন্দু সংখ্যালঘু ভারতের সেখানেই বিচ্ছিন্নতাবাদী সন্ত্রাসবাদ, সে মুসলমান প্রধান কাশ্মীরই হোক আর খৃষ্টান প্রধান নাগাল্যান্ড, মেঘালয়া বা মিজোরাম যেখান থেকেও প্রায় তিন লক্ষ হিন্দু আদিবাসী ভূমিপুত্র রিয়াং-ব্রু-কাছাড়িদের এখন অব্ধি বিতাড়ন সম্পূর্ণ হয়েছে।

Monday, July 2, 2012

পাকিস্তানী ধর্ষকদের বিরুদ্ধে উত্তাল ব্রিটেন




ছলে-বলে-কৌশলে কিশোরীদের যৌন পেশায় নিয়োগ করা হচ্ছে। কম বয়সের নারীরা প্রেমের ছলনায় ভুলছে। প্রেমিকরূপী দালালদের হাতে পড়ে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণায় কতর হয়ে যাচ্ছে মেয়েরা। গত কয়েক বছরে শত শত মেয়ে ব্রিটেনের ম্যানচেস্টার কাউন্টির রোসডেল শহরে জড়িয়ে পড়েছে এক চক্রের ভেতরে। অথচ সবকিছু ছাড়িয়ে সামনে চলে আসছে বর্ণবাদ, ধর্ম ও জাতীয়তাবাদ। কারণ, অপরাধীরা পাকিস্তানি বংশোদ্ভুত মুসলমান আর নিপীড়নের শিকার নারীরা ব্রিটিশ খিস্টান।

সম্প্রতি ব্রিটেনের এক আদালত কম বয়সী মেয়েদের ফুসলিয়ে যৌন পেশায় নিয়োগ করার অপরাধে নয়জনকে দোষী সাব্যস্ত করলে এ নিয়ে শুরু হয় বিতর্ক আর হট্টোগোল। টাইমস অব ইন্ডিয়ার অনলাইনে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আজ সোমবার বলা হয়েছে, ‘আজকের ব্রিটেন সহনশীল ও সহমতের উপরে প্রতিষ্ঠিত—এমন দাবি করা হয় গর্বের সাথে। ব্রিটেনের সমাজের ভেতরে পঁচে যাওয়া এক ফোঁড়াকে উন্মোচন করে দিয়েছে এই মামলা। দেশটির এশীয় মুসলমান সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে চলমান বিক্ষোভের আগুনে ঘি ঢেলেছে এই মামলার রায়। উগ্র ডানপন্থী দলগুলো বর্তমান অর্থনৈতিক সঙ্কটের মধ্যেও মুখিয়ে উঠেছে ঘটনার বিচার নিয়ে।’
উগ্র ডানপন্থীদের দাবি, এশীয় সংখ্যালঘুরা দেশটিতে সন্ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। মেয়েদের প্রতি মুসলমান কোন সম্মানবোধ নেই। মেয়েদের তারা দেখে কেবল ভোগের সামগ্রী হিসেবে। খ্রিস্টান ও শিখ মেয়েদের গাড়িতে তুলে পৌঁছে দেওয়ার নাম করে গোপন জায়গায় নিয়ে যায়, তারপর ধর্ষণ করে। কারণ, মুসলমানরা ‘খ্রিস্টান ও শিখদের’ ঘৃণা করে। 
মুসলমানরা এই বিবরণের বিরোধীতা করছে। বলছে, ইসলামে ধর্ষণ অন্যায়। কিন্তু যখন অভিযুক্তরা নিজেই স্বীকার করছে, শ্বেতাঙ্গ খ্রিস্টানরা তাদের মেয়েদের ভোগ্যপণ্য বানিয়েছে বলেই তারা সেসব মেয়েদের অন্যায় কাজে ব্যবহার করেছে, তখন ধর্ম ও বর্ণবাদ বিতর্কের মাঝে না এসে পারে না। অভিযুক্ত সাবের আহমেদ (৫৯) আদালতে বলেছে, ‘শ্বেতাঙ্গ মানুষেরা তাদের যৌনকর্ম ও মদপানে অভ্যস্ত করে তোলে। তাই এসব মেয়েরা পুরো তৈরি হয়ে আমাদের কাছে আসে।’ সাবের মনে করে, শ্বেতাঙ্গ চামড়ার মেয়েরা নাক-উঁচু, ছোটলোক ও অর্থ লোভী। সে মনে করে, সাদা মানুষেরা মেয়েদের অবজ্ঞার চোখে দেখে আর তাদের সাথে বাজে কাজ করলে চোখ বুজে থাকে। সাবেরের দাবি, তাদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে, কারণ তারা কালো।
এই অভিযোগ তুলে সাবের পার পাননি। তার বিরুদ্ধে মুসলমানরাই সাক্ষী দিয়েছে। ধর্ম-বর্ণ জড়িয়ে অপরাধীরা মামলাকে জটিল করার চেষ্টা চালিয়েছিল, অথচ শেষে ফেঁসে গেছে নিজেদের জালেই। তাদের শাস্তি বাড়ানোর দাবিতে আন্দোলনে নেমেছে ব্রিটিশ ন্যাশনালিস্ট পার্টি। তারা দাবি তুলেছে, এ ধরনের এশীয় ও মুসলমানদের দেশ থেকে তাড়িয়ে দিতে হবে। কঠোর করতে হবে অভিবাসী আইন।
ঘটনার শিকার নারীরা বলছে, তারা কখনো ভাবেননি মুসলমানরা এমন ব্যবসায় তাদের জড়িয়ে ফেলতে পারে। ২০০৮ সালে একজন নারী প্রথম অভিযোগ এনেছিল। কিন্তু, অভিযোগ দাখিলের সময় সে মাতাল ছিল বলে, পুলিশ ঘটনা আমলে নেয়নি। এরপরের বছরে তার মতো অভিযোগকারীর সংখ্যা কয়েক শ ছাড়িয়ে যায়। ফলে টনক নড়ে পুলিশের। এ বছর তারা অভিযোগ দাখিল করে ১১ জনের বিরুদ্ধে। রায়ে খালাস পায় দুই জন, শাস্তি হয় নয় জনের। কিন্তু, এখনেই কি শেষ? নাকি প্রতিশোধের আগুন ধিকিধিকি করে জ্বলবে আরও অনেক দিন। 
প্রথম অভিযোগকারী নারী প্রচার মাধ্যমকে বলেছে, ‘এখন এটা সবদিকেই চলছে। আপনারা মনে করেন মুসলামান পুরুষরা ধার্মিক, সংসারী ও ভালো মানুষ। কিন্তু, আপনারা ভাবতেও পারবেন না, তারা কি করছে, কি করতে পারে।’
এই অভিযোগকারী মাত্র ১৪ বছর বয়সে নিপীড়নের শিকার হয়। বয়স্ক এক ব্যক্তি তাকে কিছু উপহার দেয়। গয়না কিনে দেয়, পানশালায় নিয়ে মদ পান করায়। কয়েকদিন পরে সেই লোক তার কাছে বিনিময়ে কিছু চায়। কি ধরনের বিনিময়, জানতে চায় মেয়েটি। লোকটি জানায়, মেয়েটিকে তার ও তার বন্ধুদের সাথে যৌনকর্মে লিপ্ত হতে হবে। মেয়েটি রাজি না হলে, ভয় দেখানো হয়, বাধ্য করা হয় পাঁচ জনের সাথে যৌন কর্মে লিপ্ত হতে। মেয়েটি পুলিশে অভিযোগ করে, সে ধর্ষণের শিকার হয়েছে। কিন্তু, পুলিশ পরে বিভিন্ন কারণে মামলা স্থগিত করে। এরপরে অপরাধীরা সেই মেয়ের সাথে আবার যোগাযোগ করে। এক পর্যায়ে তাকে ভয় দেখিয়ে বাধ্য করে আরও বেশি অন্যায় কাজ করতে। মেয়েটি কাজ করতে থাকে টোপ হিসেবে। অপরাধীরা এভাবে এক বিরাট চক্র গড়ে তোলে। অনেক মেয়েদের টেনে নিয়ে আসে যৌন কর্মে।
বর্তমানে ১৯ বছর বয়সী মেয়েটি প্রচারমাধ্যমকে আরও বলে, ‘শুরুতে প্রচণ্ড রাগ আর লজ্জা হতো। এরপর পুলিশ যখন কিছু করলো না, তখন সব বাদ দিলাম। শেষে অনুভূতিহীন হয়ে পড়লাম। এক সময়ে আমি আর আমি থাকলাম না। শুধু কোন রকমে বেঁচে থাকলাম। আমি শুধু ভাবতাম, ওরা আমার সাথে যা করেছে তা কত জঘণ্য।’


ভারতে লাভ জিহাদও এভাবে চলে। হাজার হাজার হিন্দু মেয়েকে প্রেমের ফাঁদে ফেলে ভারতীয় মুসলমানরা ধর্মান্তরিত করে। এরা সারা বিশ্বেরই সমস্যা। 

ধর্ম প্রতিমন্ত্রী সমীপে- গৌরমোহন দাস





<<<ধর্ম প্রতিমন্ত্রী সমীপে>>>
এ দেশ হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সকলের রক্তের বিনিময়ে স্বাধীনতা অর্জন করেছে। এ দেশে কেউ সুবিধা পাবে কেউ পাবে না তা ঠিক নয়। বর্তমান সরকারও বলে থাকেন এ দেশ অসাম্প্রদায়িক দেশ! আমার মনে হয় কথাটি শুধু মুখেই বাস্তবে নয়।
তার কিছু চিত্র : কোন একটি রাষ্ট্রীয় অনুষ্ঠান শুরু করতে গেলেও দেখা যায় যে, শুধু এক ধর্মের পবিত্র গ্রন্থ থেকে পাঠ করা হয়। কেন? এ দেশ কি একটি ধর্ম জনগোষ্ঠির?
মুসলিম ধর্ম সম্প্রদায়ের উপাসনার জন্য অসংখ্য রয়েছে। অফিস আদালতেও রয়েছে প্রার্থনার স্থান। হিন্দুদের জন্য মন্দির থাকলেও তা রক্ষা করতে পারছে না সরকার। প্রতিনিয়ত হিন্দু জনগণ ও মন্দিরে আক্রমণ হচ্ছে।
ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অধীন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট। হিন্দুদের নানাবিধ সমস্যায় উক্ত ট্রাস্ট ভূমিকা পালন এইতো সকলের প্রত্যাশা। ট্রাস্টের অধীন মন্দিরভিত্তিক শিশু ও গণশিক্ষা কার্যক্রম প্রকল্পও লোকজনকে ধর্মীয় চেতনায় সমৃদ্ধ করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। কিন্তু তা পালন করছে কি! মন্দিরভিত্তিক শিক্ষাকেন্দ্রে এই প্রকল্পের পাঠ্য বইগুলো হলো : সনাতন ধর্ম শিক্ষা, আমার প্রথম পড়া, আমরা শিখি গণিত। মন্দিরে অন্য ধর্মের কোন শিক্ষার্থী আসেও না, সবাই হিন্দু। অথচ উক্ত ট্রাস্টে ও এর অধীন নানান প্রকল্পে শুধু হিন্দু নয় অন্য ধর্মের মতের লোকজনকেও নিয়োগ দেয়া হয়ে থাকে। লক্ষণীয় বিষয় যে, মুসলিম ফাউন্ডেশনে শুধু মুসলিমই, বৌদ্ধধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টে শুধু বুদ্ধই নিয়োগ দেয়া হয়। অথচ হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টে সকলকেই নিয়োগ দেয়া হয়। মন্দিরভিত্তিক উক্ত কার্যক্রমে অন্য ধর্মের লোক নিয়োগ দেয়া হয় বলে, মন্দিরকে বা মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত দেব-দেবীকে তারা হেয় করে, কোমলমতি শিশুদেরকে মনের প্রতিবন্ধক শিক্ষা দিয়ে থাকে। যেমন : অন্য ধর্মের একজন শিক্ষক মন্দিরে প্রবেশ করেন না। হিন্দুরা যথাযথ মর্যাদায় প্রসাদ গ্রহণ করি, কিšতু অন্য ধর্মের একজন শিক্ষক তা তাজ্যিল্যভাবে ত্যাগ করে, মšেত্রর যথার্থ উচ্চারণেও পারদর্শী নয়। তা ছাড়া পড়ানো অবস্থায় মুসলিম সম্প্রদায়ের একজন শিক্ষক তার কোন অতিথি আসলে ‘আসসালামুআলাইকুম’ বলে থাকেন (হিন্দুরা নমস্কার বা প্রণাম জানায়)। যার প্রভাব অধ্যয়ণরত শিশুদের উপর পড়ে। স্যারের মুখে উচ্চারিত শব্দটি আয়ত্ব করে এবং অন্যত্র প্রয়োগও করে। ফলে হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট কল্যাণের নামে আদৌ কি কল্যাণ করছে! না, আদৌ কোন কল্যাণ হবে!
উপরিউক্ত বিষয় বিবেচনা করে, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টে হিন্দুধর্মীয় লোকজন নিয়োগ দেয়ার জন্য মাননীয় প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিকট অনুরোধ জানাচ্ছি।


গৌরমোহন দাস
দফতর সম্পাদক
কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী পরিষদ
বাংলাদেশ জাতীয় হিন্দু সমাজ সংস্কার সমিতি
 

Labels

বাংলা (170) বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন (22) ethnic-cleansing (17) ভারতীয় মুসলিমদের সন্ত্রাস (17) islamic bangladesh (13) ভারতে হিন্দু নির্যাতন (12) : bangladesh (11) হিন্দু নির্যাতন (11) সংখ্যালঘু নির্যাতন (9) সংখ্যালঘু (7) আরব ইসলামিক সাম্রাজ্যবাদ (6) minority (5) নোয়াখালী দাঙ্গা (5) হিন্দু (5) hindu (4) minor (4) নরেন্দ্র মোদী (4) বাংলাদেশ (4) বাংলাদেশী মুসলিম সন্ত্রাস (4) ভুলে যাওয়া ইতিহাস (4) love jihad (3) গুজরাট (3) বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন (3) বিজেপি (3) ভারতে অনুপ্রবেশ (3) মুসলিম বর্বরতা (3) হিন্দু নিধন (3) George Harrison (2) Julia Roberts (2) List of converts to Hinduism (2) bangladesh (2) কলকাতা (2) গুজরাট দাঙ্গা (2) বাবরী মসজিদ (2) মন্দির ধ্বংস (2) মুসলিম ছেলেদের ভালবাসার ফাঁদ (2) লাভ জিহাদ (2) শ্ত্রু সম্পত্তি আইন (2) সোমনাথ মন্দির (2) হিন্দু এক হও (2) হিন্দু মন্দির ধ্বংস (2) হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা (2) Bhola Massacre (1) English (1) april fool. মুসলিম মিথ্যাচার (1) converted hindu celebrity (1) converting into hindu (1) dharma (1) facebook (1) gonesh puja (1) gujrat (1) gujrat riot (1) jammu and kashmir (1) om (1) religion (1) roth yatra (1) salman khan (1) shib linga (1) shib lingam (1) swami vivekanada (1) swamiji (1) অউম (1) অক্ষরধাম মন্দিরে জঙ্গি হামলা ২০০২ (1) অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী (1) অর্পিত সম্পত্তি আইন (1) আওরঙ্গজেব (1) আদি শঙ্কর বা শঙ্করাচার্য (1) আর্য আক্রমণ তত্ত্ব (1) আসাম (1) ইতিহাস (1) ইয়াকুব মেমন (1) উত্তরপ্রদেশ (1) এপ্রিল ফুল (1) ওঁ (1) ওঁ কার (1) ওঁম (1) ওম (1) কবি ও সন্ন্যাসী (1) কাদের মোল্লা (1) কারিনা (1) কালীঘাট মন্দির (1) কাশী বিশ্বনাথ মন্দির (1) কৃষ্ণ জন্মস্থান (1) কেন একজন মুসলিম কোন অমুসলিমের বন্ধু হতে পারে না? (1) কেন মুসলিমরা জঙ্গি হচ্ছে (1) কেশব দেও মন্দির (1) খ্রিস্টান সন্ত্রাসবাদ (1) গনেশ পূজা (1) গুজরাটের জঙ্গি হামলা (1) জাতিগত নির্মূলীকরণ (1) জামাআ’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (1) জেএমবি (1) দেশের শত্রু (1) ধর্ম (1) ধর্মযুদ্ধ (1) নবদুর্গা (1) নববর্ষ (1) নালন্দা (1) নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় (1) নোয়াখালি (1) পঞ্চ দেবতার পূজা (1) পহেলা বৈশাখ (1) পহেলা বৈশাখ কি ১৪ এপ্রিল (1) পাকিস্তানী হিন্দু (1) পূজা (1) পূজা ও যজ্ঞ (1) পূজার পদধিত (1) পৌত্তলিকতা (1) ফেসবুক (1) বখতিয়ার খলজি (1) বরিশাল দাঙ্গা (1) বর্ণপ্রথা (1) বর্ণভেদ (1) বলিউড (1) বাঁশখালী (1) বিহার (1) বুদ্ধ কি নতুন ধর্ম প্রচার করেছেন (1) বৈদিক ধরম (1) বৌদ্ধ দর্শন (1) বৌদ্ধ ধর্ম (1) ভারত (1) মথুরা (1) মরিচঝাঁপি (1) মানব ধর্ম (1) মিনি পাকিস্তান (1) মীরাট (1) মুক্তমনা (1) মুক্তিযুদ্ধ (1) মুজাফফরনগর দাঙ্গা (1) মুম্বাই ১৯৯৩ (1) মুলতান সূর্য মন্দির (1) মুলায়ম সিং যাদব (1) মুসলিম তোষণ (1) মুসলিম ধর্ষক (1) মুসলিমদের পুড়ে মারার ভ্রান্ত গল্প (1) মুহাম্মদ বিন কাশিম (1) মূর্তি পুজা (1) যক্ষপ্রশ্ন (1) যাদব দাস (1) রথ যাত্রা (1) রথ যাত্রার ইতিহাস (1) রবি ঠাকুর ও স্বামীজী (1) রবি ঠাকুরের মা (1) রবীন্দ্রনাথ ও স্বামীজী (1) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1) রিলিজিওন (1) রুমি নাথ (1) শক্তিপীঠ (1) শঙ্করাচার্য (1) শিব লিংগ (1) শিব লিঙ্গ (1) শিব লিঙ্গ নিয়ে অপপ্রচার (1) শ্রীকৃষ্ণ (1) সনাতন ধর্ম (1) সনাতনে আগমন (1) সাইফুরস কোচিং (1) সালমান খান (1) সোমনাথ (1) স্বামী বিবেকানন্দ (1) স্বামীজী (1) হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্ম (1) হিন্দু জঙ্গি (1) হিন্দু ধর্ম (1) হিন্দু ধর্ম গ্রহন (1) হিন্দু বিরোধী মিডিয়া (1) হিন্দু মন্দির (1) হিন্দু শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাই (1) হিন্দুধর্মে পৌত্তলিকতা (1) হিন্দুরা কি পৌত্তলিক? (1) ১লা বৈশাখ (1) ১৯৭১ (1)

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Blogger Tips and TricksLatest Tips And TricksBlogger Tricks

সর্বোচ্চ মন্তব্যকারী