শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুন

শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুন
অর্জুন তোমার আমার বহুবার জন্ম হয়েছে। সে কথা তোমার মনে নেই, সবই আমার মনে আছে।

Thursday, April 3, 2014

বাংলা সাহিত্যের অন্ধকার যুগঃপিছনের মর্মস্পর্শী কাহিনী

ত্রয়োদশ শতাব্দী থেকে চতুর্দশ শতাব্দীর মধ্যভাগ ভাগ পর্যন্ত প্রায় দেড়শত বছর বাংলা সাহিত্যের কোন নিদর্শন পাওয়া যায়নি, এই যুগকে আখ্যায়িত করা হয়েছে বাংলা সাহিতের অন্ধকার যুগ হিসেবে।

বাংলা সাহিত্যের ১২০০-১৩৫০ খ্রি. পর্যন্ত সময়কে “অন্ধকার যুগ” বা “বন্ধ্যা যুগ” বলে কেউ কেউ মনে করেন। ড. হুমায়ুন আজাদ তাঁর “লাল নীল দীপাবলী” গ্রন্থে (পৃ. ১৭) লিখেছেন- “১২০০ থেকে ১৩৫০ পর্যন্ত সময়ের মধ্যে রচিত কোন সাহিত্য কর্মের পরিচয় পাওয়া যায়না বলে এ-সময়টাকে বলা হয় ‘অন্ধকার যুগ’। পণ্ডিতেরা এ-সময়টাকে নিয়ে অনেক ভেবেছেন, অনেক আলোচনা করেছেন, কিন্তু কেউ অন্ধকার সরিয়ে ফেলতে পারেন নি।এ- সময়টির দিকে তাকালে তাই চোখে কোন আলো আসেনা, কেবল আঁধার ঢাকা চারদিক।”


এসময়ের সাহিত্য নিদর্শন: ১. প্রাকৃত ভাষার গীতি কবিতার সংকলিত গ্রন্থ ‘প্রাকৃত পৈঙ্গল’ ২. রামাই পণ্ডিত রচিত ‘শূন্যপুরাণ’ (গদ্যপদ্য মিশ্রিত) ৩. হলায়ুধ মিশ্র রচিত ‘সেক শুভোদয়া’ (গদ্যপদ্য মিশ্রিত) ৪. ডাক ও খনার বচন



আরব ইসলামী সাম্রাজ্যবাদী ইখতিয়ার উদ্দিন বিন মুহম্মদ বখতিয়ার খিলজি ১২০৪ খ্রিস্টাব্দে অতর্কিতে লক্ষণ সেনের রাজধানী নদীয়ায় প্রবেশ করলে বাংলায় সেন বংশের শেষ শাসক অশীতিপর বৃদ্ধ লক্ষণ সেন পিছনের দরজা দিয়ে পালিয়ে গেলে এই বিজয় সূচিত হয়। তুর্কি বিজয়ের মধ্যদিয়ে বাংলাদেশে মুসলমান শাসনের শুরু হলে দেড়’শ বছর এর স্থায়িত্ব ধরে নিয়ে এ সময়ে উল্লেখযোগ্য সাহিত্য সৃষ্টি সম্ভব ছিলনা । শামসুদ্দিন ইলিয়স শাহ ১৩৪২ সালে গৌড়ের সিংহাসন দখলে নিয়ে দিল্লির শাসনমুক্ত রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করেন। তার পুত্র সেকান্দর শাহের শাসনামলে আবির্ভাব হয় কবি বড়– চণ্ডীদাসের। এই বড়– চণ্ডীদাসের রচিত ‘শ্রীকৃষ্ণকীর্তন’ কাব্যই মধ্যযুগে বাংলা সাহিত্যের প্রথম নিদর্শন।


ইতিহাসকারেরা মনে করেছেন মধ্যযুগের ‘দেড়’শ দু’শ কিংবা আড়াই’শ বছর ধরে হত্যাকাণ্ড ও অত্যাচার চালানো হয় কাফেরদের ওপর। তাদের জীবন জীবিকা এবং ধর্ম-সংস্কৃতির ওপর চলে বেপরোয়া ও নির্মম হামলা। উচ্চবিত্ত ও অভিজাতদের মধ্যে অনেকেই মরল, কিছু পালিয়ে বাঁচল, আর যারা মাটি কামড়ে টিকে রইলো তারা ত্রাসের মধ্যেই দিন রজনী গুণে গুণে রইল। কাজেই ধন, জন আর প্রাণের নিরাপত্তা যেখানে অনুপস্থিত, যেখানে প্রাণ নিয়ে সর্বক্ষণ টানাটানি, সেখানে সাহিত্য সংস্কৃতি চর্চার বিলাস অসম্ভব। ফলে সে সময়ে সাহিত্য সংস্কৃতির উন্মেষ বিকাশের প্রশ্নই উঠেনা।’ ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায় মুসলমানদের সম্পর্কে লিখেছেন ‘শারীরিক বল, সমরকুশলতা ও বীভৎস হিংস্রতার দ্বারা বাংলা ও তাহার চতুস্পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে ইসলামের অর্ধচন্দ্র খচিত পতাকা প্রোথিত হইল। ১৩শ হইতে ১৫শ শতাব্দীর শেষ ভাগ পর্যন্ত প্রায় দুই শত বছর ধরিয়া এই অমানুষিক বর্বরতা রাষ্ট্রকে অধিকার করিয়াছিল, এই যুগ বঙ্গসংস্কৃতির তামসযুগ, য়ুরোপের মধ্যযুগ ঞযব উধৎশ অমব- এর সহিত সমতুলিত হইতে পারে।’ ড. সুকুমার সেনের মতে ‘মুসলমান অভিযানে দেশের আক্রান্ত অংশে বিপর্যয় শুরু হয়েছিল।’ গোপাল হালদারের মতে তখন ‘বাংলার জীবন ও সংস্কৃতি তুর্ক আঘাতে ও সংঘাতে, ধ্বংসে ও অরাজকতায় মূর্ছিত অবসন্ন হয়েছিল। খুব সম্ভব সে সময়ে কেউ কিছু সৃষ্টি করবার মত প্রেরণা পায়নি।’
কোন কোন পণ্ডিতের মতে এসময়ে ‘বাংলাদেশের ওপর দিয়ে বারম্বার হরণকারী বৈদেশিক তুর্কিদের নির্মম অভিযান প্রবল ঝড়ের মত বয়ে যায় এবং প্রচণ্ড সংঘাতে তৎকালীন বাংলার শিক্ষা, সাহিত্য, সভ্যতা সমস্তই বিনষ্ট ও বিলুপ্ত হয়ে যায়।’
ড. অসিতকুমার বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে ‘শারীরিক বল, সমরকুশলতা ও বীভৎস হিংস্রতার দ্বারা মুসলমানেরা অমানুষিক বর্বরতার মাধ্যমে বঙ্গসংস্কৃতির ক্ষেত্রে তামস যুগের সৃষ্টি করে।’ তিনি মনে করেন ‘বর্বর শক্তির নির্মম আঘাতে বাঙালি চৈতন্য হারিয়েছিল’ এবং ‘পাঠান, খিলজি, বলবন, মামলুক, হাবশি সুলতানদের চণ্ডনীতি, ইসলামি ধর্মান্ধতা ও রক্তাক্ত সংঘর্ষে বাঙালি হিন্দু সম্প্রদায় কূর্মবৃত্তি অবলম্বন করে কোন প্রকারে আত্মরক্ষা করেছিল।’ তিনি আরও লিখেছেন ,‘তুর্কি রাজত্বের আশি বছরের মধ্যে বাংলার হিন্দু সমাজে প্রাণহীন অখণ্ড জড়তা ও নাম পরিচয়হীন সন্ত্রাস বিরাজ করিতেছিল।...কারণ সেমীয় জাতির মজ্জাগত জাতি দ্বেষণা ও ধর্মীয় অনুদারতা। ..১৩শ শতাব্দীর প্রারম্ভেই বাংলাদেশ মুসলমান শাসনকর্তা, সেনাবাহিনী ও পীর ফকির গাজীর উৎপাতে উৎসন্নে যাইতে বসিয়াছিল। শাসনকর্তৃগণ পরাভূত হিন্দুকে কখনও নির্বিচারে হত্যা করিয়া, কখনওবা বলপূর্বক ইসলাম ধর্মে দীক্ষিত করিয়া এ দেশে মুসলমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি করিতে আরম্ভ করেন। হিন্দুকে হয় স্বধর্ম ত্যাগ, না হয় প্রাণত্যাগ, ইহার যে কোন একটি বাছিয়া লইতে হইত।’ ভূদেব চৌধুরীর মতে, ‘বাংলার মাটিতে রাজ্যলিপ্সা, জিঘাংসা,যুদ্ধ, হত্যা, আততায়ীর হস্তে মৃত্যু-নারকীয়তার যেন আর সীমা ছিলনা। সঙ্গে সঙ্গে বৃহত্তর প্রজাসাধারণের জীবনের উৎপীড়ন, লুণ্ঠন, অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও ধর্মহানির সম্ভাবনা উত্তরোত্তর উৎকট হয়ে উঠেছে। স্বভাবতই জীবনের এই বিপর্যয় লগ্নে কোন সৃজনকর্ম সম্ভব হয়নি।’ তার মতে বখতিয়ার খিলজি মুসলিম বিজেতাদের চিরাচরিত প্রথামত বিগ্রহ মন্দির বিধ্বস্ত করে ধ্বংসস্তুপের মধ্যে গড়ে তুলেছিলেন নতুন মসজিদ। মাদ্রাসা ও ইসলামিক শিক্ষার মহাবিদ্যায়তন প্রতিষ্ঠা করে, বিধর্মীদের ধর্মান্তরিত করে ধর্মীয় উৎসাহ চরিতার্থ করেন। বস্তুত, বখতিয়ারের জীবনান্তের পরে তুর্কি শাসনের প্রথম পর্যায়ের নির্মমতা ও বিশৃংখলার প্রাবল্যের দরুণ এই পলায়নপ্রবণতা আরও নির্বারিত হয়েছিল। 

Wednesday, April 2, 2014

বিবি নাচিয়ার: যে মুসলিম রাজকন্যা এক হিন্দু মন্দিরে পুজা পান


তাঁকে দক্ষিনের মীরাবাঈ বললে হয়ত বা একটু বাড়িয়েই স্তুতি করা হবে। সঙ্গীতের মাধুরী তাঁর ছিল না। তিনিও মীরার মতই কৃষ্ণের সাধিকা ও ভক্ত। তাঁকে নিয়ে দক্ষিনের মানুষদের ভক্তি সন্মানের অভাব নেই। তবে প্রচারের আলো থেকে বঞ্ছিত বলে দক্ষিন ভারতের বাইরের জগতের অনেকেই তাঁর নাম জানেন না। তিনি সুরৎনী। তাঁর পরিচয়, তিনি দিল্লীর খিলজী বা খলজী বংশের কুখ্যাত সম্রাট আলাউদ্দীন খিলজীর কন্যা।

তাঁকে নিয়ে অনেক লোককথা, অনেক কাহিনী কিংবদন্তী ছড়িয়ে আছে দক্ষিনের গ্রামে গ্রামে। কেউ বলেন তিনি কৃষ্ণের স্ত্রী আবার কেউ বলেন ভক্ত। তবে একটা কথা নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই যে তিনি দক্ষিন ভারতের হিন্দু মুসলমানের মধ্যে এক মেলবন্ধনের সূত্র।

দক্ষিন ভারতের কাবেরী নদী এখানের ইতিহাস ও সমাজ জীবনে এক প্রগাঢ় ছাপ ফেলেছে। নানা ঐতিহাসিক ঘটনার সাক্ষী চলমান কাবেরীর স্রোত। এই নদী চলতে চলতে অনেক ব-দ্বীপের সৃষ্টি করেছে। এই রকম তিনটি দ্বীপেই নির্মিত হয়েছে দক্ষিনের বিখ্যাত রঙ্গনাথ স্বামীর তিনটি মন্দির। রঙ্গনাথ হলেন নারায়ণ বা কৃষ্ণ। কর্ণাটক প্রদেশের মহীশুরের কাছে টিপু সুলতানের নামধন্য শ্রীরঙ্গপত্তনম গ্রামের মন্দিরটি আদি রঙ্গ, শিবসমুদ্রমের কাছের মন্দিরটি মধ্য রঙ্গ ও তামিলনাড়ু প্রদেশের তিরুচিরাপল্লীর কাছে শ্রীরঙ্গমের মন্দিরটি অন্ত রঙ্গ নামে পরিচিত। এই শেষ মন্দিরটির সাথেই সুরৎনীর জীবন জড়িয়ে গেছিল।

আলাউদ্দীন তার জীবনদশায় অনেক হিন্দু স্হাপত্যকলার নিদর্শন ধ্বংশ করেছেন। দক্ষিনেও তার কুনজর পড়েছিল। তিনি ১৩১১ সালে তার সেনাপতি মালিক কাফুরকে পাঠান শ্রীরঙ্গম শহরের রঙ্গনাথ স্বামীর মন্দিরটি ধ্বংশ করার জন্য। এক রক্তাক্ত যুদ্ধের পর মালিক কাফুর এই মন্দিরটি জয় করে ধ্বংশ করেন ও রঙ্গনাথ স্বামীর মূল মূর্ত্তিটি তিনি বিজয়ের স্মারক হিসাবে সুলতানকে দেবার জন্য দিল্লী নিয়ে যান।

মুর্ত্তিটি আমি শুধু এক ঝলক দেখেছিলাম ২০০৬ সালে। রঙ্গনাথ স্বামী দুহাত ভাঁজ করে মাথার তলায় দিয়েএকপাশ ফিরে চোখ বুজিয়ে শুয়ে আছেন। তাঁর প্রসন্ন শান্ত মুখে এক অমলিন মৃদু হাসি। দেখলেই কেমন যেন মনটা শান্ত হয়ে যায়। নিঃসন্দেহে একটা ওয়ার্ক অফ আর্ট।

দিল্লীতেই আলাউদ্দীনের মেয়ে সুরৎনী মূর্ত্তিটিকে দেখে এর প্রেমে পড়ে যান। পরে একদল দক্ষিনী ভক্ত মুর্ত্তিটিকে দিল্লী থেকে চুরি করে দক্ষিনের দিকে যাত্রা করেন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল মুর্ত্তিটিকে যথাস্হানে পুনর্প্রতিষ্ঠা করা। মূর্ত্তিটিকে না দেখে সুরৎনীরও মনভঙ্গ হয়েছিল। তিনিও দিল্লী থেকে দক্ষিনের পথে যাত্রা করেন।

বহু বাঁধা বিঘ্ন কাটিয়ে তিনি যখন শ্রীরঙ্গম শহরে আসেন তখন তাঁর শরীরের অবস্হা কাহিল। এবং মন্দিরের প্রবেশদ্বারেই তিনি প্রাণত্যাগ করেন। পরে মেয়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে ক্রুদ্ধ হয়ে আলাউদ্দীন আবার মালিক কাফুরকে পাঠান শ্রীরঙ্গমের মন্দির ও শহর ধ্বংশ করতে। কথিত আছে সেই যুদ্ধে ১৩০০০ সেবাইত প্রাণ বিশর্জন দিয়েও শহর রক্ষা করতে পারেননি। কিন্তু সেটা অন্য ইতিহাস।

আজও ভক্ত সুরৎনীকে স্মরণ করেন স্হানীয় মানুষজন।এখানে তাঁর পরিচয় বিবি নাচিয়ার নামে। তামিল ভাষায় নাচিয়ার বা নাচিয়াম্মা শব্দটির অর্থ দেবী। মন্দিরেও তাঁর একটা বিগ্রহ স্হাপিত হয়েছে। এখনো তাঁর নামে উত্তর ভারতের খাদ্য রুটি ও সব্জী প্রসাদ হিসাবে বিতরণ করা হয় মন্দিরে।

মুহাম্মদ আনোয়ার শেইখ:জঙ্গি থেকে লেখক ও চিন্তাবিদ

যার ছবিটি দেখছেন তাঁর নাম ছিল মুহাম্মদ আনোয়ার শেইখ।তিনি একজন পাকিস্তানি বংশোদ্ভুদ ব্রিটিশ লেখক।তিনি ওয়েলসের কার্ডিফে বসবাস করতেন।

১৯২৮ সালের ১লা জানুয়ারি আনোয়ার শেইখ পাঞ্জাবের এক ধর্মপ্রাণ এবং মৌলবাদী সুন্নি মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহন করেন।১৯৪৭ সালের ভারত বিভাগের সময়কার সাম্প্রদায়িক উত্তেজনাপূর্ণ সময়ে আনোয়ার এবং তাঁর পিতা একদিনে দুই জন শিখকে হত্যা করেন।পরবর্তীতে আনোয়ার আরও একজন শিখকে হত্যা করে।তার শৈশব এবং যৌবন এভাবেই জঙ্গিবাদী মুসলিম চরিত্রই প্রকটভাবে ফুটে ওঠে তার বাবা এবং পরিবারের কারনে।

কিন্তু যখন তিনি ২৫ বছর বয়স অতিক্রম করেন এই বিদ্বেষপূর্ণ মতবাদ ইসলাম সম্পর্কে তাঁর অনাস্থা জেগে ওঠে এবং মানসিক ভাবে অশান্তিতে ভুগতে থাকেন।তাঁর পূর্বের করা অপরাধ তাঁর ভিতর তীব্র অনুশচনা সৃষ্টি করে। জিহাদের নামে এভাবে মানুষ হত্যা তাঁকে ইসলাম নিয়ে ঘৃণার অনুভুতি জাগিয়ে তোলে এবং ইসলামের অসারতা সম্পর্কে বুঝতে শুরু করেন।তিনি জীবনের উদ্দ্যেশ্য এবং সত্য ধর্ম সম্পর্কে জানতে আগ্রহী হয়ে ওঠেন। এরই মাঝে তিনি যুক্তরাজ্যে অভিবাসী হিসেবে বসবাস শুরু করেন। তিনি ওয়েলসের একজন মহিলাকে বিয়ে করেন এবং সেখানে একজন সফল ব্যবসায়ী হিসেবে আত্মপ্রকাশ করেন।সাথে সাথে চলতে থাকে তাঁর সৎ অনুসন্ধান।এভাবে একক প্রচেষ্টায়, নিজের ইচ্ছায় তিনি সনাতন বৈদিক ধর্ম নিয়ে পড়তে শুরু করেন।এরপর চর্চা শুরু করেন এবং সেখানেই তিনি সত্য খুজে পান। তিনি বৈদিক ধর্ম গ্রহন করেন তাঁর নতুন নাম হয় অনিরুদ্ধ জ্ঞান শিখা।
কিন্তু হিন্দু ধর্ম গ্রহণ এবং ইসলামের অসারতা নিয়ে কথা বলা ও বই লেখার কারনে তাঁর নিজ জন্মস্থান পাকিস্তানে তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করা হয় এবং তাঁকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়।

মৃত্যুদণ্ডের ফতোয়া মাথায় নিয়ে ২৫ নভেম্বর, ২০০৬ সালে তিনি ওয়েলসে মৃত্যু বরন করেন।

• তাঁর বিখ্যাত বই 'The Clash of Fundamentalisms' to his views and the reaction they provoked’ যার মুখবন্ধ লেখেন আরেক পাকিস্তানি বিখ্যাত চলচিত্রকার ও লেখক তারিক আলী। তাঁর অন্যান্য বই গুলো হলঃ Vedic Civilization,Islam: The Arab National Movement,Islam: Sex and Violence,Islam and Human Rights ,This is Jihad,Islam: The Arab Imperialism ,Eternity,Faith and Deception,Taxation and Liberty

• তাঁর সম্পর্কিত উইকি লিঙ্ক http://en.wikipedia.org/wiki/Anwar_Shaikh
• তাঁর একটি সাক্ষাৎকারের ভিডিও দেখুন এখানে http://www.youtube.com/watch?v=_HNNgKiGyWE

মুলতান সূর্য মন্দিরঃ আরব ইসলামিক সাম্রাজ্যবাদের আরেক বলি।

সোমনাথ মন্দির যেটি ইসলামিক সাম্রাজ্যবাদীরা ছয়বার ভেঙ্গে ফেলেছিল এবং হিন্দুরা ছয়বারই তৈরি করে। কিন্তু মুলতান সূর্য মন্দিরের কথা কয়জন জানেন?




মুলতান সূর্য মন্দির বা আদিত্য সূর্য মন্দির ছিল একটি প্রাচীন হিন্দু মন্দির। এটি পাকিস্তানের পাঞ্জাব প্রদেশের মুলতান শহরে অবস্থিত।

প্রচলিত কিংবদন্তি অনুসারে, কৃষ্ণের পুত্র শাম্ব কুষ্ঠ রোগ থেকে মুক্ত হতে মুলতানের আদি সূর্যমন্দিরটি নির্মাণ করেছিলেন।
গ্রিক নৌপ্রধান সাইল্যাক্স এই সূর্যমন্দিরের উল্লেখ করেছিলেন। তিনি ৫১৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দে এই অঞ্চলের পাশ দিয়ে গিয়েছিলেন। মুলতান শহরের প্রাচীন নাম ছিল কাশ্যপপুর। এই শহর ও তার সূর্যমন্দিরের উল্লেখ হেরোডোটাসও করেছিলেন।
কথিত আছে, ৬৪১ খ্রিস্টাব্দে হিউয়েন সাং এই মন্দিরে এসেছিলেন। তাঁর বর্ণনা থেকে জানা যায়, এই মন্দিরে প্রতিষ্ঠিত বিগ্রহটি ছিল সোনার তৈরি ও বিগ্রহের চোখদুটি ছিল লাল চুনি দিয়ে তৈরি। মন্দিরের দরজা, স্তম্ভ ও চূড়ায় সোনা, রুপো ও রত্নের অনেক ব্যবহার ছিল। প্রতিদিন সহস্রাধিক হিন্দু এই মন্দিরে পূজা দিত। তিনি এই মন্দিরে কিছু দেবদাসীও দেখেছিলেন। তিনি আরও বলেছিলেন, এই মন্দিরে শিব ও বুদ্ধের মূর্তি ছিল।
অষ্টম শতাব্দীতে মুহাম্মদ বিন কাশিমের নেতৃত্বে উমায়াদ খলিফা বাহিনী মুলতান দখল করেন। অনুপ্রবেশকারীরা এই মন্দির লুণ্ঠন করে। কাশিম মন্দিরের রক্ষকদের বন্দী করে ধনসম্পদ লুঠ করেন। শুধু কাঠের বিগ্রহটি লুঠ করা হয়নি। তবে হিন্দুধর্মকে উপহাস করতে এক টুকরো গোমাংস মুর্তিটির গলায় ঝুলিয়ে দেওয়া হয়। বাজারের কাছে কাশিম একটি মসজিদ নির্মাণ করেছিলেন। পরে মুলতান আক্রমণকারী হিন্দু রাজাদের সঙ্গে দরাদরি করার জন্য এই মন্দিরটিকে ব্যবহার করা হত। যেকোনো হিন্দু রাজা মুলতান দখল করতে চাইলেই, মন্দিরটি ধ্বংস করার হুমকি দেওয়া হত। এর ফলে হিন্দু রাজারা মুলতান আক্রমণ থেকে বিরত থাকতেন। দশম শতাব্দীতে ইসমাইলিরা মুলতান দখল করে মূর্তিটি ভেঙে ফেলে ও পুরোহিতদের হত্যা করে। তারা মন্দিরের জায়গায় একটি মসজিদ তৈরি করে। উমায়াদ মসজিদটির বদলে এটি ব্যবহৃত হতে থাকে। পরে গজনির মামুদ নতুন মসজিদটি বন্ধ করে শুক্রবারের প্রার্থনার জন্য পুরনো মসজিদটিই চালু রাখেন। এর ফলে ইসমাইলি মজজিদটি জীর্ণ হয়ে পড়ে। আল বিরুনি লিখেছিলেন, একাদশ শতাব্দীতে হিন্দু তীর্থযাত্রীরা মুলতানের সূর্যমন্দিরে আসতেন না। কারণ সেই সময় মন্দিরটি পুরোপুরি ধ্বংসপ্রাপ্ত হয়েছিল। তারপর আর মন্দিরটি তৈরি হয়নি।
আল বিরুনি এই মন্দিরের বর্ণনাও দিয়েছিলেন।] যদিও কথিত আছে গজনির মামুদই ১০২৬ সালে মন্দিরটি সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেন।

মুলতানের যে অংশে মন্দিরটি অবস্থিত ছিল “মূলস্থান”। সম্ভবত এই নাম থেকেই মুলতান শহরের নামের উৎপত্তি হয়েছিল।এই স্থানটি সঠিক কোথায় ছিল, তা আর জানা যায় না। এই নিয়ে গবেষকদের মধ্যে মতান্তর আছে।

এক বাবরী মসজিদের জন্য তারা কাঁদে আর তারা কত শত হিন্দু মন্দির ভেঙ্গে চলেছে তাদের বর্বর যুগের সূচনালগ্ন থেকে তার কি কোন হিসাব আছে?

দিনে দিনে বহু বাড়িয়াছে দেনা শুধিতে হইবে ঋণ। 

Labels

বাংলা (170) বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন (22) ethnic-cleansing (17) ভারতীয় মুসলিমদের সন্ত্রাস (17) islamic bangladesh (13) ভারতে হিন্দু নির্যাতন (12) : bangladesh (11) হিন্দু নির্যাতন (11) সংখ্যালঘু নির্যাতন (9) সংখ্যালঘু (7) আরব ইসলামিক সাম্রাজ্যবাদ (6) minority (5) নোয়াখালী দাঙ্গা (5) হিন্দু (5) hindu (4) minor (4) নরেন্দ্র মোদী (4) বাংলাদেশ (4) বাংলাদেশী মুসলিম সন্ত্রাস (4) ভুলে যাওয়া ইতিহাস (4) love jihad (3) গুজরাট (3) বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন (3) বিজেপি (3) ভারতে অনুপ্রবেশ (3) মুসলিম বর্বরতা (3) হিন্দু নিধন (3) George Harrison (2) Julia Roberts (2) List of converts to Hinduism (2) bangladesh (2) কলকাতা (2) গুজরাট দাঙ্গা (2) বাবরী মসজিদ (2) মন্দির ধ্বংস (2) মুসলিম ছেলেদের ভালবাসার ফাঁদ (2) লাভ জিহাদ (2) শ্ত্রু সম্পত্তি আইন (2) সোমনাথ মন্দির (2) হিন্দু এক হও (2) হিন্দু মন্দির ধ্বংস (2) হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা (2) Bhola Massacre (1) English (1) april fool. মুসলিম মিথ্যাচার (1) converted hindu celebrity (1) converting into hindu (1) dharma (1) facebook (1) gonesh puja (1) gujrat (1) gujrat riot (1) jammu and kashmir (1) om (1) religion (1) roth yatra (1) salman khan (1) shib linga (1) shib lingam (1) swami vivekanada (1) swamiji (1) অউম (1) অক্ষরধাম মন্দিরে জঙ্গি হামলা ২০০২ (1) অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী (1) অর্পিত সম্পত্তি আইন (1) আওরঙ্গজেব (1) আদি শঙ্কর বা শঙ্করাচার্য (1) আর্য আক্রমণ তত্ত্ব (1) আসাম (1) ইতিহাস (1) ইয়াকুব মেমন (1) উত্তরপ্রদেশ (1) এপ্রিল ফুল (1) ওঁ (1) ওঁ কার (1) ওঁম (1) ওম (1) কবি ও সন্ন্যাসী (1) কাদের মোল্লা (1) কারিনা (1) কালীঘাট মন্দির (1) কাশী বিশ্বনাথ মন্দির (1) কৃষ্ণ জন্মস্থান (1) কেন একজন মুসলিম কোন অমুসলিমের বন্ধু হতে পারে না? (1) কেন মুসলিমরা জঙ্গি হচ্ছে (1) কেশব দেও মন্দির (1) খ্রিস্টান সন্ত্রাসবাদ (1) গনেশ পূজা (1) গুজরাটের জঙ্গি হামলা (1) জাতিগত নির্মূলীকরণ (1) জামাআ’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (1) জেএমবি (1) দেশের শত্রু (1) ধর্ম (1) ধর্মযুদ্ধ (1) নবদুর্গা (1) নববর্ষ (1) নালন্দা (1) নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় (1) নোয়াখালি (1) পঞ্চ দেবতার পূজা (1) পহেলা বৈশাখ (1) পহেলা বৈশাখ কি ১৪ এপ্রিল (1) পাকিস্তানী হিন্দু (1) পূজা (1) পূজা ও যজ্ঞ (1) পূজার পদধিত (1) পৌত্তলিকতা (1) ফেসবুক (1) বখতিয়ার খলজি (1) বরিশাল দাঙ্গা (1) বর্ণপ্রথা (1) বর্ণভেদ (1) বলিউড (1) বাঁশখালী (1) বিহার (1) বুদ্ধ কি নতুন ধর্ম প্রচার করেছেন (1) বৈদিক ধরম (1) বৌদ্ধ দর্শন (1) বৌদ্ধ ধর্ম (1) ভারত (1) মথুরা (1) মরিচঝাঁপি (1) মানব ধর্ম (1) মিনি পাকিস্তান (1) মীরাট (1) মুক্তমনা (1) মুক্তিযুদ্ধ (1) মুজাফফরনগর দাঙ্গা (1) মুম্বাই ১৯৯৩ (1) মুলতান সূর্য মন্দির (1) মুলায়ম সিং যাদব (1) মুসলিম তোষণ (1) মুসলিম ধর্ষক (1) মুসলিমদের পুড়ে মারার ভ্রান্ত গল্প (1) মুহাম্মদ বিন কাশিম (1) মূর্তি পুজা (1) যক্ষপ্রশ্ন (1) যাদব দাস (1) রথ যাত্রা (1) রথ যাত্রার ইতিহাস (1) রবি ঠাকুর ও স্বামীজী (1) রবি ঠাকুরের মা (1) রবীন্দ্রনাথ ও স্বামীজী (1) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1) রিলিজিওন (1) রুমি নাথ (1) শক্তিপীঠ (1) শঙ্করাচার্য (1) শিব লিংগ (1) শিব লিঙ্গ (1) শিব লিঙ্গ নিয়ে অপপ্রচার (1) শ্রীকৃষ্ণ (1) সনাতন ধর্ম (1) সনাতনে আগমন (1) সাইফুরস কোচিং (1) সালমান খান (1) সোমনাথ (1) স্বামী বিবেকানন্দ (1) স্বামীজী (1) হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্ম (1) হিন্দু জঙ্গি (1) হিন্দু ধর্ম (1) হিন্দু ধর্ম গ্রহন (1) হিন্দু বিরোধী মিডিয়া (1) হিন্দু মন্দির (1) হিন্দু শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাই (1) হিন্দুধর্মে পৌত্তলিকতা (1) হিন্দুরা কি পৌত্তলিক? (1) ১লা বৈশাখ (1) ১৯৭১ (1)

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Blogger Tips and TricksLatest Tips And TricksBlogger Tricks

সর্বোচ্চ মন্তব্যকারী