শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুন

শ্রীকৃষ্ণ এবং অর্জুন
অর্জুন তোমার আমার বহুবার জন্ম হয়েছে। সে কথা তোমার মনে নেই, সবই আমার মনে আছে।

Thursday, May 17, 2012

জরাসন্ধ বধ





জরাসন্ধ
চন্দ্রবংশীয় মগধরাজ বৃহদ্রথের পুত্র বিপ্রচিত্তি নামক দানব পৃথিবীতে জরাসন্ধ হিসাবে জন্মগ্রহণ করেছিলেন ইনি কাশীরাজের দুই যমজ মেয়েকে বিবাহ করেছিলেন কিন্তু তাঁর যৌবন গত হওয়ার কারণে, ইনি সন্তান লাভে বঞ্চিত হনপরে সন্তান কামনায় ইনি চণ্ডকৌশিককে আরাধনা করেন আরাধনায় সন্তুষ্ট হয়ে চণ্ডকৌশিক রাণীদের দুটি মন্ত্রপূত আম উপহার দেনবৃহদ্রথ এই ফলটি সমান দুইভাগে ভাগ করে উভয় স্ত্রীকে দান করেন যথাসময়ে রানীরা দুটি অর্ধাঙ্গের সন্তান প্রসব করেন এইরূপ সন্তান দেখে রানীরা ভীত ও দুঃখিত হয়ে তাঁদের দাসীর সাহায্যে এই সন্তানের অংশ দুটি শ্মশানে রেখে আসেন এই সময় জরা নামক এক রাক্ষসী এই দুটি খণ্ডকে কৌতুহলবশত একত্রিত করলে খণ্ড দুটি একত্রিত হয়ে পূর্ণতা লাভ করে এবং জীবিত হয়ে উঠে এরপর শিশুটি কাঁদতে শুরু করলে রাজা ও রানীরা শ্মশানে এলে- জরা নারী মূর্তি ধরে বৃহদ্রথের হতে সন্তানটি তুলে দেন এই সময় জরা ভবিষ্যৎ বাণীতে বলেন যে- এই শিশুকে জন্মের মতো দ্বিবিভক্ত করলেই এর মৃত্যু হবে জরা রাক্ষসী এই শিশুর দেহ যুক্ত করেছিল বলে- এঁর নাম রাখা হয় জরাসন্ধ
জরাসন্ধ বড় হলে, বৃহদ্রথ এঁর হাতে রাজ্য সমর্পণ করে রানীদের নিয়ে বনে চলে যান জরাসন্ধ তাঁর দুই মেয়ে অস্তি ও প্রাপ্তিকে কংসের সাথে বিবাহ দেন শ্রীকৃষ্ণের হাতে কংস নিহত হলে- ইনি এর প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য মোট আঠারবার মথুরা আক্রমণ করেন এবং একবার কৃষ্ণকে হত্যা করার জন্য গিরিবজ্র থেকে একটি গদা উনিশবার ঘুরিয়ে মথুরার উদ্দেশে নিক্ষেপ করলে তা উনিশশত যোজন দূরে পতিত হয়এইভাবে বার বার জরাসন্ধের আক্রমণে অতীষ্ট হয়ে কৃষ্ণ জরাসন্ধকে হত্যা করার জন্য ভীম ও অর্জুনকে সাথে নিয়ে জরাসন্ধের কাছে আসেন উল্লেখ্য, এই সময় তিনজনই ব্রাহ্মণের ছদ্মবেশ নিয়েছিলেন জরাসন্ধ এই তিনজনের হাতে অস্ত্রব্যবহারের চিহ্ন দেখে প্রকৃত পরিচয় জানতে ইচ্ছা করলে, কৃষ্ণ তাঁদের প্রকৃত পরিচয় দেন এরপর জরাসন্ধের সাথে ভীমের মল্লযুদ্ধ হয় ভীম একধিকবার জরাসন্ধকে পরাজিত করে শরীর বিচ্ছিন্ন করেন, কিন্তু অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে উক্ত শরীর জোড়া লেগে জরাসন্ধ জীবিত হয়ে উঠতে থাকেন এরপর কৃষ্ণের ইশারায় ভীম বিচ্ছিন্ন হওয়া দেহকে মিলিত হওয়ায় বাধা সৃষ্টি করলে- জরাসন্ধের প্রকৃত মৃত্যু ঘটে

হিন্দুরা কি মূর্তিকে ঈশ্বর বলে মনে করে?




প্রাচ্য ও পাশ্চাত্য সভ্যতার মধ্যে যে মৌলিক প্রভেদ দেখা যায়
, তা হল - প্রাচ্যবাসীরা অন্তর্জগতের অনুসন্ধানে তাঁদের অধিকাংশ শক্তি ব্যয় করেছেন প্রাচীন ভারতবর্ষ বিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় প্রভুত উন্নতি সাধন করা সত্ত্বেও সেগুলোকে ' অপরা বিদ্যা ' বলে চিহ্নিত করে ' পরা বিদ্যা ' অর্থাৎ অন্তর্জগতের সন্ধানে আত্মনিয়োগ করেছিল  অন্তর্জগত-সন্ধানী ঋষিরা ক্রমশঃ এই দৃশ্যমান জগতের অবাস্তবতা অনুধাবন করলেন এই দৃশ্যমান জগৎ পরিবর্তনশীল , আর যা পরিবর্তনশীল তা নিত্য বা পরম ( absolute ) হতে পারেনা বিষয়টি বিজ্ঞানী আইনস্টাইনের relativity তত্ত্বের সাথে তুলনীয় জগতের ঘটনাগুলি নির্দিষ্ট frame of reference এর সাপেক্ষেই সত্য বলে প্রতীয়মান হচ্ছে frame of reference বদলে গেলেই তা অন্যভাবে প্রতিভাত হবে আমাদের ঋষিগণ খুঁজতে চেয়েছেন এই পরিবর্তনশীল অনিত্যতার পিছনে কি সেই নিত্যবস্তু , যাকে পরম সত্য (absolute truth) বলে নির্দেশ করা যাবে ? এই সন্ধানই ভারতে অধ্যাত্মবিদ্যার জন্ম দিয়েছে  অপরপক্ষে পাশ্চাত্য দেশের মানুষ জড়জগতের রহস্যভেদ করতে গিয়ে জড়বিজ্ঞানে ক্রমশঃ পারদর্শী হয়ে উঠেছে পাশ্চাত্য সভ্যতা তাই বহির্মুখী এবং প্রাচ্য তথা ভারতীয় সভ্যতা অন্তর্মুখী  ভারতের বেদান্তবাদী ঋষিরা এই ভ্রমাত্মক দৃশ্যমান জড়জগৎকে সম্পূর্ণ অস্বীকার করে দৃশ্যমান জড়জগতের কারণ স্বরূপ যে absolute সত্ত্বার সন্ধান পেয়েছেন, তাকে তাঁরা ' সদ্ - চিৎ - আনন্দ ' - এই নামে অভিহিত করলেন ' সদ্ ' , অর্থাৎ সত্য স্বরূপ বা নিত্য , ' চিৎ', অর্থাৎ চৈতন্য বা জ্ঞানস্বরূপ এবং 'আনন্দ', অর্থাৎ প্রেমস্বরূপ এই ' সদ্ - চিৎ - আনন্দ ' কে 'ব্রহ্ম' নামেও অভিহিত করা হয় 'ব্রহ্ম'ই পরম ( absolute ) , 'ব্রহ্ম' ছাড়া প্রকৃতপক্ষে আর কোনকিছুরই অস্তিত্ব নেই ব্রহ্মের যেটুকুতে 'সৃষ্টি-স্থিতি-প্রলয়' নামক এই পরিবর্তনশীল জগতের ভ্রম সাধিত হচ্ছে , বেদান্ত তাকেই নির্দেশ করল - 'ঈশ্বর' বা 'ভগবান' নামে ঈশ্বর হলেন এই পরিবর্তনশীল জগৎ চক্রের কেন্দ্র স্বরূপ , আবার তিনিই পরিবর্তনশীল জগৎ রূপে নিজেকে অভিব্যক্ত করছেন সুতরাং দেখা গেল - ভ্রমাত্মক দৃষ্টিতে যা বহুত্বময় জগৎ , জ্ঞানদৃষ্টিতে তাই ঈশ্বর জগৎকে এই ভ্রমাত্মক দৃষ্টিতে দেখার ফলে আমরা নিজেদেরকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র গণ্ডিতে আবদ্ধ করে ফেলেছি '' আমার থেকে অমুক আলাদা '' -এটা ভ্রমাত্মক দৃষ্টির উপলব্ধি জ্ঞানদৃষ্টিতে আমরা সকলেই একই পরমসত্তা - ঈশ্বরের প্রকাশ  আমাদের এই প্রকৃত 'আমিত্বের' সন্ধান পেয়েছিলেন প্রাচীন ভারতবর্ষের আর্য ঋষিগণ তাঁদের সাধনার মধ্যে দিয়ে জন্ম হয়েছিল বিশ্বের প্রাচীনতম আধ্যাত্মিক দর্শনের পৃথিবীর অধিকাংশ মানুষ যখন অজ্ঞানের মোহনিদ্রায় আচ্ছন্ন , সেই সুপ্রাচীন অতীতে হিমালয় শিখরে ধ্বনিত হয়েছিল - '' শৃন্বন্তু বিশ্বে অমৃতস্যপুত্রাঃ আ যে ধামানি দিব্যানি তস্থু ।। বেদাহমেতাং পুরুষং মহান্তম্ আদিত্য বর্ণং তমসো পরস্তাৎ ।। ত্বমেব বিদিত্বাহতি মৃত্যুমেতি নান্যং পন্থা বিদ্যতেহনায় ।। '' এই আমাদের সনাতন চেতনা - সনাতন ধর্ম , যার বর্তমান প্রচলিত নাম ' হিন্দু ধর্ম ' বিশ্বে এমন কোনও ধর্মমত নেই যার মূল ভাব সনাতন ধর্মে নেই সুতরাং ঐতিহাসিক বিচারে সনাতন হিন্দুধর্ম সকল ধর্মের উৎস যুগে যুগে এই ধর্মের রক্ষার্থে যুগপুরুষগণ আবির্ভূত হন , তাঁদের পুণ্য প্রভাবে সনাতন ধর্ম নতুন ভাবে নতুন শক্তিতে জেগে ওঠে এই ধর্ম তাই চিরন্তন , আর যা চিরন্তন তাই তো শাশ্বত বা সনাতন হিন্দু ঋষিগণ ধর্মপথ নির্দেশের সময় মানুষের রুচি ও ক্ষমতার ভিন্নতার কথা চিন্তা করেছেন , তাই মূর্তি পূজা থেকে শুরু করে নিরাকার ব্রহ্ম উপাসনা পর্যন্ত সবই হিন্দু ধর্মে স্বীকৃত হয়েছে বিভিন্ন মাপের মানুষের জন্য একই মাপের পোশাক এই ধর্ম দেয়না হিন্দুরা নিজ নিজ রুচি ও ক্ষমতার স্তর অনুযায়ী নিজের উপযুক্ত সাধন পদ্ধতি বেছে নিতে পারেন উদ্দেশ্য সবারই এক , এবং তা হল - আত্ম জ্ঞান , অর্থাৎ স্ব-স্বরূপ কে জানা হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন সাধন পথ গুলিকে মুখ্যতঃ চার ভাগে ভাগ করা হয়েছে এগুলি হল জ্ঞান যোগ , কর্ম যোগ , ভক্তি যোগ ও রাজ যোগ
জ্ঞান যোগে আত্ম বিশ্লেষণ এবং ' শ্রবণ , মনন ও নিদিধ্যাসনের ' দ্বারা ' নেতি নেতি ' বিচারের মাধ্যমে সাধক লক্ষ্যে উপনীত হন আচার্য শঙ্কর এই সাধনা প্রচার করেছেন
কর্ম যোগে নিষ্কাম কর্ম দ্বারা সকাম কর্ম বন্ধন কেটে সাধক লক্ষ্যে উপনীত হন ভগবান শ্রী কৃষ্ণ অর্জুন কে কুরুক্ষেত্র প্রান্তরে কর্মযোগে উদ্দীপ্ত করেছেন
ভক্তিযোগে প্রেমের বন্ধনে ভক্ত সাধক ঈশ্বরকে ধরার চেষ্টা করেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ-চৈতন্য ( মহাপ্রভু ) এই ভাবের প্রচার করেছেন
রাজযোগে ধ্যান , প্রাণায়াম প্রভৃতি শারীরিক ও মানসিক প্রক্রিয়ার দ্বারা সাধক স্ব-স্বরূপ লাভ করেন মহর্ষি পতঞ্জলি এই সাধন পদ্ধতি প্রচার করেছেন
"পুতুল পূজা করে না হিন্দু কাঠ মাটি দিয়ে গড়া মৃন্ময়ি মাঝে চিন্ময়ি হেরী হয়ে যাই আত্মহারা" স্বামী বিবেকানন্দের এই কথার মানে বুঝতে পারলে মূর্তিপূজার মানে বোঝা যায়। হিন্দু ধর্মে অজস্র স্তর আছে প্রতিমা পুজা একটি নিম্নস্তর সাধারণ মানুষের ধারণা মন দ্বারা সীমায়িত , তাই অনন্তের কল্পনা সাধারণ মানুষের পক্ষে অসম্ভব যার কোনও আকার নেই , তার কোনও সীমা নেই কোনও ধর্মের মানুষই প্রাথমিক ভাবে সীমাহীন অনন্তের ধারণা করতে পারেনা মুসলিমরা পশ্চিম দিকে মুখ করে নামাজ পড়ে কেন ? কারণ পশ্চিম দিকে মক্কা নামক এক সীমায়িত স্থানে তাদের ঈশ্বরের প্রতীক আছে অনন্তের ভাব অবলম্বন করতে সক্ষম হলে তাদের আর বিশেষ দিকনির্দেশের দরকার পড়তোনা কারণ অনন্ত যিনি তিনি তো সর্ব দিকে সমভাবে বিরাজমান  খৃস্টানরা ক্রস বুকে ঝুলিয়ে ঘোরে কেন ? ওটাও একটি প্রতীক যাকে তারা পবিত্র ঈশ্বরের সাথে যুক্ত করেছে  হিন্দুরা মানব মনের এই সীমাবদ্ধতার কথা জানে , কিন্তু অন্যদের মতো এটাকে এড়িয়ে যায়না তাই '' নির্বিকল্প - নিরাকার - সচ্চিদানন্দঘন '' ঈশ্বরীয় সত্তার প্রথম আবিষ্কারক হয়েও হিন্দু ঋষিরা মূর্তি পূজার প্রয়োজনীয়তাও অস্বীকার করেননি  কোথায় ছিল এইসব সমালোচকদের ধর্ম , যখন আমাদের ঋষিরা এই নির্গুণ নিরাকার ব্রহ্মকে উপলব্ধি করেছেন ? জগতের সমস্ত ঈশ্বরীয় মতবাদই হিন্দুদের কাছ থেকে ধার করা সুদুর অতীতে সমগ্র জগত যখন অজ্ঞানের আদিম অন্ধকারে ঘুমাচ্ছে তখন ভারতবর্ষের সনাতন ধর্মই আলোকবর্তিকা রূপে মানুষকে এই নিরাকার , অব্যক্ত , সচ্চিদানন্দের দিকে আকৃষ্ট করেছিল হিন্দুরা কখনোই প্রতিমাকেই ঈশ্বর মনে করে নাহাস্যকর হলেও সত্য, যারা প্রতিমা ভাংচুর করে তারা প্রতিমাকেই হিন্দুদের ভগবান মনে করে ভাংচুর চালায়হিন্দুরা মূর্তিকে ঈশ্বরের প্রতীক হিসেবে উপাসনা করে এবং পূজা শেষে জলে প্রতিমা বিসর্জন দেয়া হয়, কারণ হিন্দুরা জানে প্রতিমা কাঠ-খড়-মাটি ছাড়া কিছু নয়মূর্তির জীবন আছে -এরকম কখনোই ভাবে না; ভাবে তারাই, যারা মূর্তি ভাংচুর করেব্যাপারটা বেশ হাস্যকর আর দুঃখজনকও বটে। (চুপি চুপি বলে রাখি, কোন কোন ধর্মের শাস্ত্রে বলা হয়েছে, মূর্তিপূজকদের আর তাদের মূর্তিগুলোকেও নরকের আগুনে নিক্ষেপ করা হবেমূর্তিগুলোও নাকি যন্ত্রণায় চিত্কার করবে মূর্তিপূজকদের সাথে!!! হিঃ হিঃ হিঃ খিক্ খিক্।)

কৃতজ্ঞতাঃ
তাপস ঘোষ দাদা এবং
মানিক রক্ষিত দাদা

Wednesday, May 16, 2012

হিন্দু বিবাহ আইন পরিবর্তন করবেন না

প্রসেনজিত দাস


বাংলাদেশে তালাক ব্যবস্থা কঠিনতর করা সত্ত্বেও মানব জমিন পত্রিকা (২/২/৯৯) 'তালাকের টর্নেডো' শিরোনামে লিখেছে, "বাসা বদলের মত ভালবাসাও পাল্টে যাচ্ছে। সমাজ গবেষকরা বলছেন এ অবস্থা উদ্বেগজনক। পাশ্চাত্য প্রভাবিত এক নতুন সংকট।" সিটি কর্পোরেশনে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, শতকরা একটিও সমঝোতায় পৌছানো যাচ্ছে না। অথচ সরকার এর পিছনে অফিস কর্মকর্তা কর্মচারী বাবদ প্রতিবছর কোটি কোটি টাকা ঢালছে। ফলাফল শূন্য। তিন মাস
ের খোরপোষ দিয়ে লাখ লাখ মহিলাকে লাথি দিয়ে বের করে দেওয়া হচ্ছে। এসব অসহায় মহিলারা যেমন বিভিন্ন হোটেলে দেহ ব্যবসা করে, ছিনতাই, প্রতারণা করে সমাজকে কলুষিত করছে; তেমনি সন্তানগুলোও পিতা মাতার স্নেহ বঞ্চিত হয়ে নানা অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত হয়ে পড়ছে। ছিনতাই, চাঁদাবাজি, রাহাজানি, জঙ্গীবাদসহ এহেন অপরাধ নাই যা তারা করছে না। আজও হিন্দুরা সন্ত্রাস ও জঙ্গীবাদ মুক্ত। অথচ যুক্তির বিচারে হিন্দুদেরই বিদ্রোহ ও সন্ত্রাসে যুক্ত হওয়ার কথা। হাজার বছর ধরে নির্যাতন নিপীড়নের মধ্য দিয়ে ১০০% হিন্দু থেকে বর্তমানে ১০%-এ নেমে আসা, ১৭% সংখ্যালঘু ভোটারের হিসাবে পার্লামেন্টে কমপক্ষে ৫৮ জন হিন্দু সদস্য না থাকা, স্বাধীন দেশেও তারা আইনত শত্রু, চাকুরী ক্ষেত্রে বৈষম্য, মঠ-মন্দির বেদখল, দেবোত্তর সম্পত্তি দখল, মন্দিরের সম্পদ চুরি, দেবতাদের মন্দির থেকে উচ্ছেদ করে যাদুঘরে প্রেরণ, সর্বোপরি আবুল বারাকাতের হিসাব মতে প্রতিদিন গড়ে ৫৫০ জন হিন্দু নিখোঁজ হওয়া। এসব মিলিয়ে হিন্দু অসন্তোষ হওয়ার কথা থাকলেও তা হয়নি। তার কারণ, হিন্দু শিশু সহিষ্ণু ও আদর্শ মানবতাবাদী হয়ে বেড়ে ওঠে। হিন্দু পরিবার ব্যবস্থায় হিন্দু মহিলা ও শিশুর জীবন এতটাই নিরাপদ যে, কোন অবস্থাতেই লাথি মেরে বের করে দেওয়ার সুযোগ নেই। স্বামীর সঙ্গে সেপারেশন থাকার পরও নারী আজীবন ভরণ পোষণ পাওয়ার অধিকারী। আর একারণেই হিন্দু সন্তান পিতামাতার স্নেহে সুস্থ মানসিকতা নিয়ে বড় হওয়ার সুযোগ পায়। পিতা মাতার স্নেহ বঞ্চিত হয়ে এতিমখানা আর রাস্তাঘাটে মানুষ হতে হয় না, মৌলবাদী আর জঙ্গী হতে হয় না। সারা দেশে হাজার হাজার মুসলিম এতিমখানায় লক্ষ লক্ষ এতিম শিশু পালিত হচ্ছে। কিন্তু সারা দেশে হিন্দু অনাথ আশ্রম আছে মাত্র চারটি এবং সেখানে অনাথ শিশুর সংখ্যা মাত্র কয়েক শত। এও সম্ভব হয়েছে হিন্দু পারিবারিক আইনের সুরক্ষায়।

হিন্দু সমাজ বিবাহ রেজিস্ট্রেশনের বাধ্যবাধকতাকেও বিরোধিতা করে; কারণ ঐ একটাই। এখন বৈদিক মন্ত্র উচ্চারণের মাধ্যমে বিস্তারিত অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে হিন্দু বিয়ে হয়; ফলে স্বামী স্ত্রীর মধ্যে গভীর বিশ্বাস জন্মে তারা এক। বিবাহ হলো মানব জীবনের দশবিধ সংস্কারের মধ্যে শ্রেষ্ঠ একটি সংস্কার। এটি একটি মাঙ্গলিক অনুষ্ঠান। হিন্দু বিবাহ নারী-পুরুষ শরীর ভোগ করার জন্য কোন চুক্তি নয়, এটি হলো আজীবন একসাথে সুখে-দুঃখে ধর্ম ও জীবন পালনের ব্রত। ধর্ম সম্মত এই ব্রত অবশ্য পালনীয়। বিবাহের সময় ঈশ্বরকে সাক্ষী রেখে যে অঙ্গীকার করা হয় তা অলঙ্ঘনীয়। হিন্দু বিবাহ তাই অবিচ্ছেদ্য। সেই ভাড়া বাড়ির মত, মানুষ যদি মনে করে বাড়িটি তার নয়, তবে সামান্য ছল-ছুতায় বাড়িটি ছেড়ে অন্য বাড়ি ভাড়া নেয়। আর যদি বাড়িটি নিজের মনে করে, তাহলে যত অসুবিধাই হোক বাড়ি পরিত্যাগ করে না; প্রয়োজনে সংস্কার করে। হিন্দু বিবাহে স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক সেই নিজের বাড়ির মতো। কিন্তু যদি রেজিস্ট্রেশন বা চুক্তিনামা চালু হয় তাহলে মানুষ অনুষ্ঠান ও আধ্যাত্মিকতা বাদ দিয়ে রেজিস্ট্রেশনের দিকে বেশী ঝুঁকবে। ফলাফল আত্মিক মিলন না হয়ে শুধুমাত্র শারীরিক মিলনটাই মুখ্য হয়ে দাঁড়াবে। ফলে মনোমালিন্য, ঝগড়া-ফ্যাসাদ লেগেই থাকবে; নারী ও শিশুর জীবন বিপন্ন হবে। এর চাক্ষুষ প্রমাণ ভারতে হাজারে হাজারে রয়েছে। ভারতে রেজিস্ট্রেশন চালু হওয়ার পর থেকে অশাস্ত্রীয় বিবাহের জোয়ার চলছে। বিবাহ শাস্ত্রীয় ও ধর্মীয় বন্ধন না হওয়ায় আত্মিক বন্ধনের পরিবর্তে শারীরিক ও কাগুজে বন্ধন সৃষ্টি হয়েছে। শাস্ত্রীয় দাম্পত্য বন্ধন শিথিলের ফলাফল আজ কোটি কোটি নারী ও শিশুর জীবন বিপন্ন। পশ্চিমবঙ্গ সরকার স্বামী পরিত্যক্ত মুসলমান নারীদের জন্য ৭০০০ বাড়িঘর তৈরির উদ্যোগ নিলে সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী আব্দুস সাত্তার দাবী করেছেন এই সংখ্যা খুবই সামান্য। পশ্চিমবঙ্গের সংখ্যালঘু মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী শুধু বীরভূম ও মুর্শিদাবাদ জেলায় তালাক প্রাপ্তা নারীর সংখ্যা তিন লাখ। অন্য জেলাগুলোতে এ সংখ্যা আরও কয়েক লাখ ছাড়িয়ে যাবে (সমকাল ৬/৯/০৯)। অর্থাৎ সুস্থ সুনিয়ন্ত্রিত ভারতীয় সমাজ পশ্চিমা চিন্তাধারার ফাঁদে পা দিয়ে আজ হাজারটা সমস্যা তৈরী করেছে ভারত নিজেই। ফলাফল শত শত কোটি টাকা রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়। সর্বাবস্থায় যে নারী ও শিশুর ভরণ পোষণ করতো পরিবার; আজ সে নারীকে সামান্য কারণেই ছুড়ে ফেলে দিতে কেউ ইতস্তত করছে না। বিপন্ন নারী জীবন বাঁচাতে এখন পতিতালয়ে। মাদক, ব্যাভিচারে ভাসছে ভারত, বাড়ছে এইডস্‌, কলিকাতা এখন এশিয়ার বৃহত্তম পতিতালয়। এনজিওরা পতিতাদের যৌনকর্মী আখ্যা দিয়ে বৈধ ব্যবসার কাতারে নিয়ে এসেছে।

বিয়ে পড়ানোর সময় পুরোহিতের সামান্য দাবী নিয়ে ঝগড়া-বিবাদ একটি সাধারণ ব্যাপার। রেজিস্ট্রেশন ফি দিতে গেলে এই তিক্ততা বাড়বে এবং বৈধতা আনতে শাস্ত্রীয় বিবাহের পরিবর্তে রেজিস্ট্রেশনের দিকেই সকলে ঝুকবে। এদেশের দরিদ্র সমাজে একটি মেয়ের বিবাহ দেওয়া যে কত বড় দায়বদ্ধতা ও খরচের ব্যাপার, মধ্যবিত্ত থেকে নিম্নবিত্ত কোটি কোটি মানুষ সকলেই বোঝেন। এখন এই মেয়েকে যদি তার স্বামী ডিভোর্স দেয়, তবে মেয়ের মা-বাবার কি সাধ্য থাকে তাকে আবার বিয়ে দেওয়ার? তারপর সেই মেয়েটির কি অবস্থা হবে? হিন্দু সমাজ ডিভোর্সী নারীদের প্রতি সবসময়ই নেতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গী পোষণ করে থাকে। একজন ডিভোর্সী হিন্দু মেয়েকে বিয়ে দেওয়া দুঃসাধ্য ব্যাপার। মেয়েটি তখন নানান দুষ্ট মানুষের খপ্পরে পড়বে। এমতাবস্থায় মেয়েটি দুষ্ট মানুষের প্ররোচণায় বিপথে গেলে বা ধর্মান্তরিত হলে অবাক হওয়াটা মোটেও সমীচীন হবে না।.......

Labels

বাংলা (170) বাংলাদেশে হিন্দু নির্যাতন (22) ethnic-cleansing (17) ভারতীয় মুসলিমদের সন্ত্রাস (17) islamic bangladesh (13) ভারতে হিন্দু নির্যাতন (12) : bangladesh (11) হিন্দু নির্যাতন (11) সংখ্যালঘু নির্যাতন (9) সংখ্যালঘু (7) আরব ইসলামিক সাম্রাজ্যবাদ (6) minority (5) নোয়াখালী দাঙ্গা (5) হিন্দু (5) hindu (4) minor (4) নরেন্দ্র মোদী (4) বাংলাদেশ (4) বাংলাদেশী মুসলিম সন্ত্রাস (4) ভুলে যাওয়া ইতিহাস (4) love jihad (3) গুজরাট (3) বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতন (3) বিজেপি (3) ভারতে অনুপ্রবেশ (3) মুসলিম বর্বরতা (3) হিন্দু নিধন (3) George Harrison (2) Julia Roberts (2) List of converts to Hinduism (2) bangladesh (2) কলকাতা (2) গুজরাট দাঙ্গা (2) বাবরী মসজিদ (2) মন্দির ধ্বংস (2) মুসলিম ছেলেদের ভালবাসার ফাঁদ (2) লাভ জিহাদ (2) শ্ত্রু সম্পত্তি আইন (2) সোমনাথ মন্দির (2) হিন্দু এক হও (2) হিন্দু মন্দির ধ্বংস (2) হিন্দু মুসলিম দাঙ্গা (2) Bhola Massacre (1) English (1) april fool. মুসলিম মিথ্যাচার (1) converted hindu celebrity (1) converting into hindu (1) dharma (1) facebook (1) gonesh puja (1) gujrat (1) gujrat riot (1) jammu and kashmir (1) om (1) religion (1) roth yatra (1) salman khan (1) shib linga (1) shib lingam (1) swami vivekanada (1) swamiji (1) অউম (1) অক্ষরধাম মন্দিরে জঙ্গি হামলা ২০০২ (1) অধ্যক্ষ গোপাল কৃষ্ণ মুহুরী (1) অর্পিত সম্পত্তি আইন (1) আওরঙ্গজেব (1) আদি শঙ্কর বা শঙ্করাচার্য (1) আর্য আক্রমণ তত্ত্ব (1) আসাম (1) ইতিহাস (1) ইয়াকুব মেমন (1) উত্তরপ্রদেশ (1) এপ্রিল ফুল (1) ওঁ (1) ওঁ কার (1) ওঁম (1) ওম (1) কবি ও সন্ন্যাসী (1) কাদের মোল্লা (1) কারিনা (1) কালীঘাট মন্দির (1) কাশী বিশ্বনাথ মন্দির (1) কৃষ্ণ জন্মস্থান (1) কেন একজন মুসলিম কোন অমুসলিমের বন্ধু হতে পারে না? (1) কেন মুসলিমরা জঙ্গি হচ্ছে (1) কেশব দেও মন্দির (1) খ্রিস্টান সন্ত্রাসবাদ (1) গনেশ পূজা (1) গুজরাটের জঙ্গি হামলা (1) জাতিগত নির্মূলীকরণ (1) জামাআ’তুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (1) জেএমবি (1) দেশের শত্রু (1) ধর্ম (1) ধর্মযুদ্ধ (1) নবদুর্গা (1) নববর্ষ (1) নালন্দা (1) নালন্দা বিশ্ববিদ্যালয় (1) নোয়াখালি (1) পঞ্চ দেবতার পূজা (1) পহেলা বৈশাখ (1) পহেলা বৈশাখ কি ১৪ এপ্রিল (1) পাকিস্তানী হিন্দু (1) পূজা (1) পূজা ও যজ্ঞ (1) পূজার পদধিত (1) পৌত্তলিকতা (1) ফেসবুক (1) বখতিয়ার খলজি (1) বরিশাল দাঙ্গা (1) বর্ণপ্রথা (1) বর্ণভেদ (1) বলিউড (1) বাঁশখালী (1) বিহার (1) বুদ্ধ কি নতুন ধর্ম প্রচার করেছেন (1) বৈদিক ধরম (1) বৌদ্ধ দর্শন (1) বৌদ্ধ ধর্ম (1) ভারত (1) মথুরা (1) মরিচঝাঁপি (1) মানব ধর্ম (1) মিনি পাকিস্তান (1) মীরাট (1) মুক্তমনা (1) মুক্তিযুদ্ধ (1) মুজাফফরনগর দাঙ্গা (1) মুম্বাই ১৯৯৩ (1) মুলতান সূর্য মন্দির (1) মুলায়ম সিং যাদব (1) মুসলিম তোষণ (1) মুসলিম ধর্ষক (1) মুসলিমদের পুড়ে মারার ভ্রান্ত গল্প (1) মুহাম্মদ বিন কাশিম (1) মূর্তি পুজা (1) যক্ষপ্রশ্ন (1) যাদব দাস (1) রথ যাত্রা (1) রথ যাত্রার ইতিহাস (1) রবি ঠাকুর ও স্বামীজী (1) রবি ঠাকুরের মা (1) রবীন্দ্রনাথ ও স্বামীজী (1) রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর (1) রিলিজিওন (1) রুমি নাথ (1) শক্তিপীঠ (1) শঙ্করাচার্য (1) শিব লিংগ (1) শিব লিঙ্গ (1) শিব লিঙ্গ নিয়ে অপপ্রচার (1) শ্রীকৃষ্ণ (1) সনাতন ধর্ম (1) সনাতনে আগমন (1) সাইফুরস কোচিং (1) সালমান খান (1) সোমনাথ (1) স্বামী বিবেকানন্দ (1) স্বামীজী (1) হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্ম (1) হিন্দু জঙ্গি (1) হিন্দু ধর্ম (1) হিন্দু ধর্ম গ্রহন (1) হিন্দু বিরোধী মিডিয়া (1) হিন্দু মন্দির (1) হিন্দু শিক্ষার্থীদের মগজ ধোলাই (1) হিন্দুধর্মে পৌত্তলিকতা (1) হিন্দুরা কি পৌত্তলিক? (1) ১লা বৈশাখ (1) ১৯৭১ (1)

সাম্প্রতিক মন্তব্য

Blogger Tips and TricksLatest Tips And TricksBlogger Tricks

সর্বোচ্চ মন্তব্যকারী